মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শেখ এ বি এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ২৭ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আবাসিকতার আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে। ফরম বাবদ ২০০ টাকা হলের ৬১৪ নম্বর অ্যাকাউন্ট নম্বরে জমা দিয়ে হল অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে হল অফিসে জমার নির্দেশ দেওয়া হলো। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার পাবে।
.png)
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাফওয়ান রহমান তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘এটা এক প্রকার বৈষম্য। যারা আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত হয়নি বা হতে পারেনি, তাদের সঙ্গে বৈষম্য। এই ধরনের নোটিশ আমাদের মহান জুলাইবিপ্লব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে চেতনা এবং আদর্শে সরাসরি বিপরীত। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের বৈষম্যমূলক নোটিশের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই বৈষম্যমূলক নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে।'
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিতে এমন কিছু উল্লেখ করার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কখনোই এমন কোনো দাবি বা চাওয়া ছিল না। আন্দোলন করেছি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই।’
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শেখ এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, 'আমাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলের এক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের কিছু সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরে হলে আবাসিকতার জন্য ২৬ তারিখ বিজ্ঞপ্তি হয়। গতকাল আরেক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আবাসিকতায় কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। তাই বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য উইন্ড্রো করতে হবে। বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।'
প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ' প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিংয়ে অগ্রাধিকারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হল প্রভোস্ট স্যার বিষয়টি ভুল করেছেন। বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করার জন্য বলা হয়েছে।'