ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

৪৫ বছরেও কাটেনি ইবির নাম বিভ্রান্তি

আনিসুর রহমান, ইবি
প্রকাশিত: ১১:৪১, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
৪৫ বছরেও কাটেনি ইবির নাম বিভ্রান্তি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

৪৫ পেরিয়ে ৪৬ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ১৯৭৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন চড়াই উতরায়ের মধ্যদিয়ে ৪৫টি বছর অতিক্রম করেছে এই বিদ্যাপীঠ। দীর্ঘ এ পথচলায় প্রাপ্তির থেকে অপ্রাপ্তির তালিকাটাও দীর্ঘ। বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিভ্রান্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতরে ব্যবহার করা হয় ভিন্ন ভিন্ন নাম। সূচনালগ্ন থেকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির এ নাম বিভ্রাট। যার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি বিদ্যাপীঠটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দফতরের প্রকাশনায় ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ’ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখায় ব্যবহৃত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ’, ‘ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’-সহ সাত থেকে আটটি ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের চতুর্থ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে থাকা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বদলে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি ব্যবহার করে তৎকালীন প্রশাসন। বিভিন্ন সভা-সেমিনার কিংবা জাতীয় দিবসগুলোতে নিজ নিজ বিভাগগুলোর ব্যানারগুলোতে নাম বিভ্রাটের বিষয়টি মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে আসে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ১৯৮০ এর ধারা ৩(১) এ উল্লেখ রয়েছে- ‘এ আইনের বিধান অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে যাহা ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে অবিহিত হইবে।’ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তরে খোদাই করে লেখা আছে- ‘বাংলাদেশ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রধান ফটকে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’। এছাড়া বিভিন্ন দফতর, পরিবহন, বিভাগ, বিভিন্ন ফলক, চিঠি, প্রকাশনা, সাইনবোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর ও গণমাধ্যমগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহারের ফলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। শিক্ষার্থীদের পরিচয় প্রদান ও চাকরির আবেদনে বিভিন্ন নামের কারণে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের জোর দাবি বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাদেশ অনুযায়ী একটি নাম ব্যবহার করে প্রত্যেকটি দফতরকে স্বীকৃত নাম ব্যবহারে নির্দেশনা এবং বাকি অন্য নামগুলো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক।

শিক্ষার্থী দিদারুল ইসলাম রাসেল বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬ বছরে পদার্পণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা নির্দিষ্ট নাম নেই। চাকরির পরীক্ষাসহ বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিড়ম্বনায় পরতে হয়।  যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন আছে সেখানকার উল্লিখিত নাম ব্যবহারের অনুরোধ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে নাম বিড়ম্বনার বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিবে বলে প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নাম নেই, এটা অত্যন্ত দুঃখের। দেশে নতুন সরকার গঠন হলে সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে এই নাম বিড়ম্বনার সমাধান হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!