ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রাবি সমন্বয়কের বিরুদ্ধে 'শিষ্টাচার বহির্ভূত' বক্তব্যের অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
রাবি সমন্বয়কের বিরুদ্ধে 'শিষ্টাচার বহির্ভূত' বক্তব্যের অভিযোগ
সালাউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে ক্যাম্পাসের চার সংগঠন। তবে, পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত কথা বলায় তার ওপরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চটেছেন বলে দাবি এই সমন্বয়কের।

রোববার (১৭ নভেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে রাবি অফিসার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র পাঠানো হয়।

অভিযোগ প্রদানকারী সংগঠন হচ্ছে- রাবি অফিসার সমিতি, রাবি সহায়ক কর্মচারী সমিতি, পরিবহন টেকনিক্যাল সমিতি ও সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়ন। তাদের দাবি, গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সালাউদ্দিন আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে অশালীন, অশ্লীল ও কুৎসিত ভাষা প্রয়োগ করে শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দেন।

Advertisement

অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে উল্লিখিত চার সংগঠনের সমন্বয়ে একটি জরুরি সভা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গত ১৫ নভেম্বর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে অশালীন, অশ্লীল ও কুৎসিত ভাষা প্রয়োগ করেন, যা অত্যন্ত লজ্জার, মানহানিকর ও অসম্মানের। বিধায় শিষ্টাচার বহির্ভূত এমন বক্তব্যে এই চারটি সংগঠন তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে এবং ঐ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন তারা। দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে পরবর্তীতে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রাবি অফিসার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, সালাউদ্দিন আম্মার তার একটি ফেসবুক ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের হিজড়া বলেছেন, যা একটি শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড। তিনি আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত দিয়েছেন। এর প্রতিবাদস্বরূপ ঐ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আবেদন করেছি। তিনি যদি এ বিষয়ে সমাধান দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

অভিযোগের বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ও সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমার কথা স্পষ্ট , এতে কেউ কষ্ট পেলে আমি আমাকে ক্লিয়ার করতে পারবো যেকোনো জায়গায়। পোষ্য কোটা শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক ,কর্মকর্তা ,কর্মচারীরা যদি পিছিয়ে পড়া বলে মনে হয় তাহলে তাদের বেতন, সুবিধা বাড়িয়ে দেন আমরা কিছুই বলব না। কিন্তু আমাদের মেধার বিপরীতে তাদের সন্তানদের এই খাপছাড়া সুবিধা মেনে নিবো না আমরা। গত ২দিন আগে আমি একটি লাইভে বলেছি যে, যদি কোটা নিতেই হয় তবে পোষ্য কোটা নয়, আপনারা ভ্যালিড একটা কোটার ব্যানারে যান। হয়ত প্রতিবন্ধী কোটা যদি আপনার সন্তানকে প্রতিবন্ধী মনে হয় আর তাছাড়া "বিশেষ ৩য় লিঙ্গ" কোটা চালু করে সুবিধা নেন আমরা কিছুই বলব না। তারা হয়ত বা এটাকেই তাদের প্রতি অপমানজনক কথা হিসেবে নিয়েছে। এটা আমার প্রতিবাদের ভাষা। এই ভাষা থেকে লজ্জা পেয়ে হলেও তারা পোষ্য কোটা বাতিলের ব্যাপারে একমত পোষণ করবে বলে আশা রাখছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত পোষ্য কোটা ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করলে সোস্যাল মিডিয়াসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। ঐদিন সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। এছাড়া ঐ রাত থেকে বিভিন্ন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করেন তারা৷ এর ধারাবাহিকতায় একইদিন সন্ধ্যায় কোটা ব্যবস্থা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে সভাপতি করে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে রাবি প্রশাসন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: রাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!