অনশনে বসা শিক্ষার্থী হলেন- তাহমিদা নাসরিন কনক। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ- বয়োজ্যেষ্ঠতা ও ফলাফলের ভিত্তি করে হলে সিট বণ্টন করা হলেও তিনি বঞ্চিত হন। কারিকুলাম কাজের প্রমাণ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সনদ আবেদনের সাথে জমা দেন তিনি। প্রাধ্যক্ষের কাছে জানাতে গেলে পরিবার ও পোশাক নিয়ে কটূক্তি করে প্রাধ্যক্ষ বলেন, 'তোমাকে দেখে হতদরিদ্র মনে হয় না। তুমি এতোদিন বাইরে (মেস) থাকতে পেরেছো।'
.png)
এই শিক্ষার্থী আরো অভিযোগ করে বলেন, আবাসিকতার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও আগেও আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে হলে সিটের জন্য সাদা কাগজে আবেদনপত্র দিতে গেলে তিনি আমার আবেদনপত্র ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, 'তোমাকে দেখে তো হতদরিদ্র মনে হয় না। তোমার বাবা এতদিন তোমাকে বাইরে রাখতে পেরেছে, আর কিছুদিন পারবে আমার মনে হয়। তুমি একটু কষ্ট করে বাইরেই থাকো। আগে ৫টা জামা কিনলে এখন ২টা কিনবা।'
অনশনের বিষয়ে তাহমিদা কনক বলেন, নীতি বদলে কেন রেজাল্ট দিলো সেই ব্যাপারে সুরাহা এবং তার ন্যায্য সিট বরাদ্দ চেয়ে আজকে অনশনে বসেছেন তিনি।
অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, অনশনে বসা শিক্ষার্থী হয়তো আবাসিকতা প্রদানের নতুন নীতিমালা বুঝতে পারেননি। নয়তো হল প্রাধ্যক্ষ ঐ শিক্ষার্থীকে বুঝাতে পারেননি। ঐ শিক্ষার্থী যদি প্রকৃতপক্ষেই হলে সিট পাওয়ার যোগ্য হয়, তবে তাকে তার সিটটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করে কার্যসিদ্ধি হাসিলের কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম জানান, আমি এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে জানি না। আমি বর্তমানে আমার বিভাগে অবস্থান করছি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছি। আমি অনশনের ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।
এর আগে হলে আবাসিকতা প্রদানের ফলাফল প্রকাশ করলে আবাসিকতা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কোনো প্রতিকার না পাওয়ার প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) করে সংবাদ সম্মেলনও করেন এই শিক্ষার্থী।