বুধবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
.png)
এ সময় তিনি বলেন, আমাদের প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।
উপাচার্য আরো বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলছে। অন্যদিকে, বাকি ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ালেখা করে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বার্থ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এছাড়াও জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সিন্ডিকেট হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এনামুল করিম আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
গেলো ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার পরিবর্তে অটোপাসের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের অনেকের পাঠ ও প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটেছে, ফলে তারা অটোপাসের মাধ্যমে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে চান।
এ বিষয়ে উপাচার্য ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার মান বজায় রাখতে অটোপাস ব্যবস্থা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযোজ্য হবে না। আমরা সব শিক্ষার্থীর উন্নত শিক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন ভবিষ্যতে শিক্ষাবর্ষ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে তা শিক্ষার মান নিশ্চিত করেই হবে।
উপাচার্যের এই ঘোষণার মাধ্যমে পরিষ্কার হলো যে, শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।