বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
নিহত আইরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত ঐ শিক্ষার্থী আইরিন ঢাকায় নেক্সট ভেনচার কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
.png)
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের প্রত্যেকদিন কোনো না কোনো জায়গা ঘটছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা আমাদের জায়গা থেকে যথেষ্ট সচেতন না। আমরা যদি খেয়াল করি, কিছুদিন আগে একই পরিবহনটাই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের এক শিক্ষার্থীকে পিষিয়ে দিয়েছে রাস্তার সঙ্গে। কিন্তু পরিবর্তনটা কি হলো, নাম পরিবর্তন করে আবার নতুন পরিবহন নিয়ে আসল কর্তৃপক্ষ।
সঠিক বিচারের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘এখানে তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে আমাদের দুর্নীতিটা এখনো পুরোপুরি নির্মূল করতে পারিনি। আমরা আমাদের যার যার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব আইরিন হত্যার সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘আকাশ পরিবহন ও সু-প্রভাত পরিবহনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের একটি তাজা প্রাণ হারাতে হয়েছে। ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জায়গা ড্রাইভাররা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালায়। এমন ড্রাইভারগুলো গাড়ি চালায় যাদের কোনো লাইসেন্স নেই। প্রশাসনকে এসব অব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উপদেষ্টামণ্ডলীর কাছে আহ্বান থাকবে যে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে যেন আইরিন হত্যার বিচার করে।
বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিভাগের কোনো সেমিনার লাইব্রেরি নেই। এই সেমিনার লাইব্রেরির নাম আইরিনের নামে তৈরি করা যায় কি না, আমি বিভাগের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে দেখব।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, প্রক্টর ড. মো. মোখলেসুর রহমান, ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহীদুল হক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকলোজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, ব্যবসায় বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হোসাইন রিফাত অনিক, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন, গণিত বিভাগের তৃতীয় শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকলোজি বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচির পরে প্রধান ফটকের সামনে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন মানববন্ধনকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘সাস্টিয়ান-সাস্টিয়ান, এক হও, লড়াই কর;’ ‘আইরিন হত্যার বিচার চাই, নিরাপদ সড়ক চাই;’ ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে;’ উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস-জাস্টিস;’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।