ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

‘ছাত্রলীগ করে কেন হলে থাকতিস’ বলেই ‘মীরজাফর’ বলা ছাত্রকে মারধর

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৩৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
‘ছাত্রলীগ করে কেন হলে থাকতিস’ বলেই ‘মীরজাফর’ বলা ছাত্রকে মারধর
হায়াত উল্লাহ শুভ; ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগ কর্মী হায়াত উল্লাহ শুভকে হল থেকে তুলে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। হায়াত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ ভার্সিটি এক্সপ্রেসের (ভিএক্স) কর্মী।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী হায়াত ও তার বন্ধু সাইদুর রহমান জুবায়ের এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসিক হল থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মালামাল নিয়ে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ নির্দেশনা অনুসারে হায়াত উল্লাহ সকালের দিকে হল থেকে তার মালামাল নিতে ক্যাম্পাসে আসেন। শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে অজ্ঞাতনামা তিনজন হায়াত উল্লাহকে শহীদ আবদুর রব হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। এসময় আরও ১০ থেকে ১২ জন তাকে ওই কক্ষে আবদ্ধ করে নির্যাতন করে। এতে ভুক্তভোগীর বাম হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়।

Advertisement

পরবর্তীতে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘মীরজাফর’ উল্লেখ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চবি ছাত্রলীগের ভিএক্স উপগ্রুপের সক্রিয় কর্মী হায়াত উল্লাহর বিরুদ্ধে; ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, ভুক্তভোগী জানান ছাত্রলীগ করার কারণে তাকে ব্যাপক মারধর করেছেন তিনজন অপরিচিত। 

ভুক্তভোগী ওই ছাত্র বলেন, ‘ছাত্রলীগ করে কেন হলে থাকতিস?’ এ কথা বলে আব্দুর রব হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে আটকে অপরিচিত তিনজন আমাকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। পরে আমার জ্ঞান হারায়। প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করেছেন। ওদের তিনজনের কাউকে আমি চিনতে পারিনি।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। অভিযুক্তদের এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। প্রভোস্টের সহযোগিতায় তাদের চিহ্নিত করা হবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

জানা যায়, ছাত্রলীগের ভিএক্স উপগ্রুপের সক্রিয় কর্মী ছিলেন হায়াত উল্লাহ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘মীরজাফর’ উল্লেখ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/AS
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!