সোমবার (৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩১ তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি বলছেন, এটা স্বাভাবিক। তাকে শুধু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
.png)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, সে (ড. হাফিজুর) মুসলমানদের ধর্মকে অবমাননা করেছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার দরকার ছিল। তবুও বিভাগের নির্ধারিত শাস্তিকে আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এখানে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, তার সব প্রকার প্রমোশন বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু আমার বিভাগ কীভাবে তার জন্য সুপারিশ করে? আমি খুবই লজ্জিত এইরকম শিক্ষক পেয়ে, যারা তাদের মেয়েদের সম্মান রাখতে জানে না।
এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির পক্ষ থেকে তার পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছিল। এর আগে, তাকে অব্যাহতির সুপারিশও করা হয়েছিল। সিন্ডিকেট এখনো অব্যাহতির সুপারিশটা গ্রহণ করেনি বা কিছু জানায়নি। তারা গতকালই ঘটনাটির তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে বলে শুনলাম। পাশাপাশি পদোন্নতিও দিয়েছে। এটা এখনো অফিসিয়ালি জানি না, শুনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সব হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিভাগ উল্লেখ করে দিয়েছে যে তাকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার মানে, বাকি কাজে সমস্যা নেই। তাছাড়া, বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির পক্ষ থেকেই তার পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এখানে তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
এর আগে, ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা, পর্দাশীল মেয়েদের বোরকা পরা ও মুখ ঢাকার কারণে হেনস্তার অভিযোগ উঠে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘আপত্তিকর’ কথোপকথনের স্কিনশর্ট ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলামিক স্টাডিজ পরিবার (রাবি) নামক ফেসবুক গ্রুপে সিদরাতুল মুনতাহা নামে একটি আইডি থেকে পোস্ট করলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেসেনজারে আপত্তিকর কিছু কথপোকথনের স্কিনশর্ট পোস্ট করা হয় ঐ গ্রুপটিতে।
এরপর ১১ মার্চ বিকেলে ঐ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করে বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়া, ঐ শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়। পরদিন (১২ মার্চ) সকাল ১০টায় অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন।