ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

হল খোলা রাখার দাবিতে ইবির প্রধান ফটক অবরোধ

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪০, ৩ জুন ২০২৪
হল খোলা রাখার দাবিতে ইবির প্রধান ফটক অবরোধ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পবিত্র ঈদ-উল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ খোলা রাখার দাবিতে প্রধান ফটক অবরোধ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (৩ জুন) পৌনে ২টার দিকে ফটকে তালা লাগান তারা। পরে ৩০ মিনিট পর প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে দাবি সংবলিত স্নারকলিপি দিতে উপাচার্য কার্যালয়ের যান শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা উপাচার্যের সাড়া না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান ফটক অবরোধ করেন। 

এদিকে অবরোধ চলাকালীন কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনকারী পরিবহনগুলো আটকা পড়ে। 

Advertisement

জানা যায়, ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে আগামী ১০ জুন সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিক হলসমূহ থেকে শিক্ষার্থীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রভোস্ট কাউন্সিল। এতে বিপাকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী, দূর থেকে পড়তে আসা ও ভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরা। পরে সোমবার দুপুরে ছুটিতেও হল খোলার রাখার দাবি নিয়ে উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি দিতে যান তারা। তবে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম ও প্রভাষক নাসির মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। 

এরপর বিকেলের দিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল উপাচার্যের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তার নিকট স্মারকলিপি দেন। এ সময় সেখানে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ, সহকারী প্রক্টর আমজাদ হোসেন, ইয়ামিন মাসুম, নাসির মিয়া, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণত সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। 

সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, অনেক চাকরিপ্রত্যাশীর সামনে লিখিত পরীক্ষা। এই লম্বা ছুটিকে কাজে লাগাতে চান তারা। হলে থেকে তারা নিরিবিলি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে চায়। কিন্তু হল বন্ধ থাকায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। 

এ দিকে এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টায় একই বিষয়ে উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জোট ‘ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ’ (ঐক্যমঞ্চ)। 

এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, একসঙ্গে দুইটা ছুটি থাকায় হল একটু বেশি সময়ের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময় হল খোলা রাখলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হলে থাকেন না। এর বাইরেও বছরের একটা নির্ধারিত সময়ে হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ছুটির প্রয়োজন হয়। তাই সবমিলিয়ে হল বন্ধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এখন প্রশাসন যদি এ বিষয়ে আমাদের চিঠি দেয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে যদি আগে জানানো হতো তাহলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় এখন আর হল খোল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিং করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে আগামীতে খোলা রাখা সম্ভব হবে। 

উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ২৩ দিন বন্ধ থাকবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ছুটি আগামী ৬ জুন শুরু হয়ে ২৮ জুন শেষ হবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রভোস্ট কাউন্সিল। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!