ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শেকৃবি গবেষণায় আশার আলো, দূষণ রোধে নতুন সম্ভাবনা

শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৯, ২৭ মে ২০২৪
শেকৃবি গবেষণায় আশার আলো, দূষণ রোধে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে গবেষণা। পরিবেশ দূষণ রোধে চিন্তিত বাংলাদেশও। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে এ দেশেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। বাড়ছে বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাও। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তায় পড়েন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি)  স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেহেদী আমীন। বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেন এই বিষয়ে। জানালেন, দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ‘বায়োচার’। 

‘বায়োচার’ শব্দটি বায়ো এবং চারকোল শব্দের মেলবন্ধনে সৃষ্ট। এটি মূলত বিশেষ ধরনের কয়লা যার মধ্যে ৩৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কার্বন থাকে।

সম্প্রতি হাইইনডেক্স জার্নালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘বায়োচার এবং টেকসই কৃষি ক্ষেত্রের ব্যবহার’ বিষয়ক রিভিউ আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত মেহেদী আমীন। তার গবেষক দলে যুক্ত ছিলেন সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর ও চীনের গবেষকরা।

Advertisement

মেহেদী আমীন বায়োচার সম্পর্কে বলেন, এটি চারকোলের অনুরূপ একটি বিশেষ ধরনের সরল কার্বন। জৈব বর্জ্য লো অক্সিজেন ডেনসিটি ও অটোমেটেড এনভায়রনমেন্ট এ উচ্চতাপ এর বায়োচার এ পরিণত হয়।

মেহেদী আমীন বলেন, মাটি থেকে নাইট্রোজেন লস হয় যা দেশে কৃষি সেক্টরের অন্যতম বড় সমস্যা। নাইট্রোজেন লসের ফলে মাটি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে না। যার কারণে ফসলের উৎপাদন ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণ ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারে মাটি ও পানির পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

মেহেদী বলেন, তবে মাটিতে ‘বায়োচার’ যুক্ত করলে নাইট্রোজেনের উদ্বায়ীকরণ প্রক্রিয়া কমে যায় এবং অনেকাংশে লস রোধ করা যায়। বায়োচারযুক্ত মাটির মাইক্রোপোর আরো সূক্ষ্ম হওয়ায় পানি ও নিউট্রিয়েন্ট এর লিচিং কমে আসে। ফলে বায়োচার ব্যবহারে মাটি বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ ও পানি গাছের ব্যবহার উপযোগী রূপে আটকে রাখতে পারে। একইভাবে বায়োচার নাইট্রোজেনসহ অন্যান্য প্রকার সারের নিঃসরণ কমিয়ে গাছের সার গ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। 

তিনি বলেন, এছাড়াও বায়োচার মাটিতে থাকা হেভি মেটাল ও অন্যান্য দূষিত পদার্থকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে আটকে রাখে। যার ফলে এই পদার্থগুলো উদ্ভিদের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা ও খরায় গাছের ফলন বৃদ্ধিতে বায়োচার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বায়োচার উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থ ও পানি ধরে রাখতে পারে যা টেকসই ফসল উৎপাদন করে কৃষিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। 

বায়োচার সম্পর্কিত আর্টিকেলটির সম্পর্কে গবেষক বলেন, আমরা আর্টিকেলটিতে দেখানোর চেষ্টা করেছি কীভাবে জৈব বর্জ্য থেকে বায়োচার প্রস্তুত করা হয়, এসব বায়োচারের কি কি ধরনের বৈশিষ্ট্য ও উপাদান রয়েছে। 

এছাড়াও পাইরোলাইসিস তাপমাত্রার পরিবর্তনে বায়োচারের গুণাগুণের কি কি পরিবর্তন হয় এবং টেকসই সার হিসেবে গাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদনে কি ধরনের প্রভাব ফেলে তার বৈজ্ঞানিক সত্যতা তুলে ধরেছি।

শেকৃবিতে ‘বায়োচার’ নিয়ে বেশ কয়েকটি গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। মেহেদী ও তার গবেষকদল মনে করে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে ‘বায়োচার’ নিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে গবেষণা হওয়া দরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: শেকৃবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!