বিভাগটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনজিল হাজারিকা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শাহনেওয়াজ চৌধুরী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজিফা শ্যামা।
এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট চলতেছে। তবে তা দ্রুতই কেটে যাবে। বিশ্বের পরিবর্তনের সাথে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের গবেষণাও পরিবর্তন হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষকরা গবেষণায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা ধরে রাখতে পারলে আগামী ১০ বছরে এই বিভাগ হবে দেশের সেরা বিভাগ।
.png)
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্স করছে এটা সত্যি আমাদের জন্য আনন্দের। শিক্ষার ক্ষেত্রে বৌদ্ধদের বিহার ছিল অন্যতম। এখানে এমন কোনো বিষয় ছিল না যা পড়ানো হতো না। শিক্ষার ক্ষেত্রে ইউরোপের চেয়ে কুমিল্লার শিক্ষার ধারা ছিল অনেক এগিয়ে। কারণ শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, রুপবান মুড়া অন্যতম আধুনিক নিদর্শন। সপ্তম-অষ্টম শতকে এখানে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড বারো শতকের। যা থেকে বোঝা যায় এশিয়া শিক্ষার ক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে ছিল। কুমিল্লা অঞ্চল শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অনিল কুমার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ রায় বন্দোপধ্যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম খাদেমুল হকসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দুইদিনব্যাপী সেমিনার আগামীকাল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান শালবান, ময়নামতি, রূপমান মুড়া পরিদর্শনের মাধ্যমে শেষ হবে।
এবিষয়ে 'প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করেছি। আমরা প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থীদের সহ কার্যক্রমের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক শিক্ষাও দিতে চেয়েছি। যার জন্যই অন্যান্য আয়োজনের মাঝে আন্তর্জাতিক সেমিনারটি রাখা হয়েছে। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।