ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
ছবির গল্প

যেন শরণার্থীদের দুঃখ গাঁথা মুক্তিযুদ্ধের দলিল

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১১, ১৩ মে ২০২৪
যেন শরণার্থীদের দুঃখ গাঁথা মুক্তিযুদ্ধের দলিল
মানবিক গল্পগুলো এসব ছবিতে চিরন্তন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি শুধুই ছবি নয়, অনেক সময় ছবিও কথা বলে। ছবিও হয়ে ওঠে এক জীবন্ত ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে ধারণকৃত এমন ৫৩ মর্মস্পর্শী ছবিও যেন স্বাধীনতার ৫৩ বছরের এসে এক জীবন্ত দলিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদারের বর্বরতার পাশাপাশি উদ্বাস্তু এবং উদ্বাস্তু শিবিরের মানবিক গল্পগুলো এসব ছবিতে চিরন্তন ও প্রাঞ্জল হয়ে উঠেছে ক্ষণস্থায়ী সেইসব মুহূর্ত। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের ধারণকৃত মর্মস্পর্শী এমন ৫৩ ছবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাবি ও দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (ডিবিএফ) যৌথ ব্যবস্থাপনায় ‘রাইজ অব নেশন’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

Advertisement

প্রদর্শনীটির ছবিটি এক ক্যাপশনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে লিখা হয়েছে, ‘এই যুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসে ভয়ংকর যুদ্ধ। হাজার হাজার নারী পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিল এইসময়। শিশুরাও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছিল। এর ভয়াবহতায় তারা এতটাই কোণঠাসা হয়ে ছিল যে সম্পূর্ণ একটি নতুন প্রজন্মের শুরুই হয় এই নৃশংসতার স্মৃতি নিয়ে।’

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের শরণার্থী শিবিরের ছবি, শরণার্থী হিসেবে মানুষের সীমান্তের পথে দীর্ঘ কষ্টকর, যাত্রা, নদীতে ভাসমান মৃতদেহ, বিপন্ন, অসহায় নারী-পুরুষের ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবিসহ একাত্তরের সময়কার বিভিন্ন দৃশ্য। এমন ৫৩ ছবি নিয়ে প্রদর্শনীটি আগামী ১৯ মে পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘুরতে আসা কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রুবেলের সঙ্গে। তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সেই সময় দুঃখ দুর্দশার বেশ জ্বলজ্বল করছে ছবি। এগুলো আগামী দিনের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য দলিল হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, ছবিও যে কথা বলে। এসব ছবি তারই প্রমাণ। এখানকার একেকটি ছবি একেকটি করে ইতিহাস। এক পলক দেখলে, মুহূর্তে পলক বন্ধ করলে সেই দুর্দশা যেন ভেতরে মুচড়ে উঠে। কতটা ত্যাগ ছিল।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এদিকে প্রদর্শনীর কিউরেটর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জিহান করীম বলেন, প্রখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রশিল্পী বন্ধু রাই তার ক্যামেরায় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি মর্মস্পর্শী করুণ কাব্যিক রূপ ধারণ করেছেন। হানাদারের বর্বরতার পাশাপাশি সেখানে উদ্বাস্তু এবং উদ্বাস্তুশিবিরের গভীর মানবিক গল্পগুলি ধরা পড়েছে; চিরন্তন হয়ে উঠেছে ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তগুলো। সীমিত সংস্থান নিয়ে অস্থায়ী শিবিরে আটকে থাকা উদ্বাস্তুদের দুর্দশা রাইয়ের ছবিতে ভিন্ন ব্যঞ্জনা পেয়েছে; করুণ, নির্মম একটি অন্ধকার অনুচ্ছেদের উপর তিনি মানবিক আলো ফেলেছেন। ‘রাইজ অব এ নেশন’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রঘু রাইয়ের ধারণকৃত ছবিগুলির একটি অমুল্য সংকলন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রসঙ্গত, রঘুনাথ রাই চৌধুরী আলোকচিত্রী জগতে পরিচিত রঘু রাই নামেই। ভারতে যাকে ফাদার অফ ইন্ডিয়ান ফটোগ্রাফি নামে অভিহিত করা হয়। পরিবার ও পরিস্থিতির চাপে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষে দিল্লিতে একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দিয়েছিলেন। বড় ভাই এস. পাল, যিনি নিজেও ছিলেন একজন আলোকচিত্রী, তার সহযোগিতায় যোগ দিলেন 'দ্য স্টেটম্যান পত্রিকায়'। এরপর থেকেই ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থিত শরণার্থী ক্যাম্পগুলো চষে বেড়িয়েছেন রঘু রাই। ক্যামেরার লেন্সে তুলে এনেছেন ক্যাম্পের নানা দুর্দশার চিত্র।

মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী সব ছবি তোলার জন্য ১৯৭২ সালে রঘু রাইকে ভারতীয় সরকার ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: ঢাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!