হপার পোকার বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত রৌদ্রের সময় এগুলো আমগাছের গুঁড়ির বাকলের ভাঁজে আশ্রয় নেয়। সংখ্যা বেশি হলে ক্লাস্টারের মতো দেখায়। আম ফড়িং হিসেবে এরা পরিচিত। এরা আম গাছের কচি পাতা, মুকুল ও ফলের (আম) ক্ষতি করে।
পোকার উপদ্রবে সৃষ্ট ভোগান্তির বিষয়ে নাইমা জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এসব পোকার উপদ্রব বেড়েছে। যদি প্রশাসন সময়মতো কীটনাশক ব্যবহার করতো তাহলে আজ আমাদের এরকম ভোগান্তির শিকার হতে হতো না। যেখানেই বসি, সেখানেই এই পোকা ছুটে আসে এবং কামড়াতে থাকে।
.png)
ইশতিয়াক আহমেদ হীরা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বসলেই আমাদের শরীরে এসে উড়ে বসতে থাকে। খুবই বিরক্তিকর। এমনকি চা খাওয়ার সময়েও এই পোকা চায়ের কাপে চলে আসে। বিশেষ করে, যেখানে আমগাছ একটু বেশি, সেখানে তো বসাই মুশকিল হয়ে যায়।
স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী সজীব বলেন, হপার পোকার উপদ্রব অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহে গাছের নিচে বসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নেয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বসামাত্রই পোকাগুলো ঘিরে ধরছে। আম গাছগুলোর সঠিকভাবে পরিচর্যা ও কীটনাশক না প্রয়োগ করার ফলে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। এ অবস্থা উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পোকার উপদ্রব দমনে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আগে এই গাছগুলো ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এগুলো এখন ইজারা দেওয়া হয় না, যেন তারা ফলমূল খেতে পারে। যদি পোকার উপদ্রব বেশি দেখি, তাহলে আমরা অবশ্যই করণীয় পদক্ষেপের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবো, যেন শিক্ষার্থী ও গাছগুলোর ক্ষতি না হয়।