খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোদের তীব্র তাপে সারাদিন বেশ গরম থাকে হলের ছাদ। বিশেষ করে যারা টপ ফ্লোরে থাকেন, তারা এই ভোগান্তিতে বেশি পড়েন। কেননা দিন শেষে রাতে যখন ঘুমোতে যান, ফ্যান ছেড়ে দিলে সারাদিনের ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়ে। যা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের দাবি, হলটির পঞ্চম তলায় যারা থাকেন, তারা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
জানা যায়, গত তিন দিন আগে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হলের একটি গ্রুপে এ নিয়ে পোস্ট দেন। যেখানে হল প্রাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখা হয়,‘চলমান তাপপ্রবাহের কারণে হলের পাঁচতলায় অবস্থান দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দিনভর রোদের তাপে ছাদ গরম হওয়ার কারণে রাত ২-৩টা পর্যন্ত রুমের তাপমাত্রা অধিক গরম থাকে। দিনে এখানে সেখানে সময় কাটাতে পারলেও রাতে রুমে অবস্থান করতে হয়। তীব্র গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় হলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ছাদ পানি দিয়ে ভিজিয়ে রুমের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য হল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
.png)
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) এ নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা হয় কাদেরের। তিনি বলেন, প্রথমে গরমে আমাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে হলের গ্রুপে পোস্ট দেই। পরে কয়েকজন মিলে প্রাধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে দেখা করি, যেন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়। পরে তার দেখা না পেয়ে হল অফিসে বলে আসি। পরের দিন দেখি পানি দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের। তারা জানিয়েছেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ছাদে পানি দেওয়া হয়। ফলে গত দিনগুলোর তুলনায় কাল রাতে গরমের তীব্রতা কম ও সহনীয় ছিল।
হলটি আরেক শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার পানি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় বেশ সহনীয় ছিল। এমন উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে।
এদিকে হলের ছাদে পানি দেওয়ার পরে আব্দুল কাদেরের তোলা দুটো ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়। আবার বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে এমন উদ্যোগ। যদিও অনেকে বিষয়টি অবৈজ্ঞানিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেননা এমন পদ্ধতিতে পানি গরম হয়ে গরমের তীব্রতা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন।
জানা যায়, পানি বেশিক্ষণ রাখা হয়নি। মিনিট ১৫ যেতে না যেতেই সেগুলো নিষ্কাশন করা হয়।
এ বিষয়ে কথা হয় কবি জসীমউদ্দিন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহীন খান বলেন, যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন আমিও হলের টপ ফ্লোরে থাকতাম। গরমের সময়ে রোদের যে তীব্রতা সেই কষ্টটি আমি অনুভব করেছি। গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীরা যেন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে, সেজন্যই পানি দিয়ে ছাদ ভেজানো হয়েছে। ছাদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেই দিকটি মাথায় রেখেই কাজটি করা হয়েছে।
আগামী দিনে এমন উদ্যোগ চলমান থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক শাহীন খান বলেন, পরিস্থিতি বুঝে আমরা উদ্যোগ চলমান থাকবে।