শীতের মলিনতা ও রুক্ষতাকে দূরে সরিয়ে প্রকৃতিতে সজীবতা ফিরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। বৃক্ষরাজি ভরে গেছে রঙিন ফুলের শোভায়। ফুলের প্রতি দুর্বলতা মানুষের স্বভাবজাত এক বৈশিষ্ট্য। আর ফুলটি যদি হয় পলাশ, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই!
কবি কিংবা গীতিকাররা পলাশের বর্ণনা দিয়েছেন নানাভাবে, তাদের কবিতায় আর গানে গানে। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন—‘যে-দিন সন্ধ্যায় পলাশের বনে হিঙ্গুল মেঘের আলোয় কোকিলের ডাক শুনেছি, সে-দিনই বুঝেছি আমার মৃত্যু অনেক দূরে।’
.png)
রূপসী বাংলার কবির সেই জন্মভূমি বরিশালে এক যুগ পার করে আসা দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। পুরো বসন্ত জুড়ে ক্যাম্পাসটি যেন পলাশ ফুলের ছোট্ট এক টুকরো রাজ্য। এই ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশ জুড়ে সারি সারি অগ্নিরাঙা পলাশ ফুলের চোখ জুড়ানো হাসি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। পাশাপাশি আকৃষ্ট করছে ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও। চোখ জুড়ানো পলাশের হাসি যেন সবুজ ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো আগুনের স্ফুলিঙ্গ।

এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন পলাশ গাছের নিচে। কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা আবার ফুল ছিঁড়ে তার প্রিয়জনের ফুলের খোঁড়াক মেটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ফুল সবারই খুব প্রিয়, পলাশের প্রতিটি লাল পাতা যেন কথা বলে। ক্যাম্পাসের স্বল্প সময়ে আমাদের মনের আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে পলাশ। পলাশ স্মৃতির নিখুঁত অটুট বন্ধন, যেখানে ছুটে বেড়ায় মন। পলাশ যেন মনে করিয়ে দেয়, আমাদের ফেলে আসা অতীতের কথা। অতীতের ফেলে আসা আবেগের এক বিন্দু মোনালিসা।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান উল্ল্যাহ শুভ পলাশ ফুল নিয়ে তার অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের খেলার মাঠের পাশের রাস্তাগুলোতে ফুটন্ত পলাশ ফুল যে কারো নজর কাড়তে বাধ্য। মনে হয় পলাশ তার লাল রঙে নতুনভাবে ক্যাম্পাসকে রাঙিয়ে তুলছে। গাছের ফুটন্ত পলাশ আর ঝড়ে পড়া পলাশ ফুলে চারপাশটায় অনেকটা ভালো লাগা কাজ করে।’
প্রসঙ্গত, পলাশের আরেক নাম ‘কিংশুক’। ইংরেজিতে যা Flame of the forest নামে প্রচলিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Butea monospera (বুটিয়া মনোস্পার্মা)। গাছটির উচ্চতা গড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ মিটার। থোকায় থোকায় ফুলে পূর্ণ থাকে শাখাপ্রশাখা। কুঁড়ি দেখতে অনেকটা বাঘের নখের মতো। গাছটির বাকল ধূসর রং বিশিষ্ট।
আঁকাবাঁকা শাখাপ্রশাখা ও কাণ্ডবিশিষ্ট পলাশের পাতা রেশমের মতোই সূক্ষ্ম। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে পলাশের বংশ বিস্তার করা হয়। সুবাস না থাকলেও সৌন্দর্য ছড়াতে জুড়ি নেই পলাশের। আছে ঔষধি গুণাগুণও।