ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শর্ত পূরণ করেও বৃত্তি পাচ্ছেন না হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

অলংকার গুপ্তা, হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৭:২৯, ২৫ মার্চ ২০২৪
শর্ত পূরণ করেও বৃত্তি পাচ্ছেন না হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ৫৪তম রিজেন্ট বোর্ডে পাশ হওয়া বৃত্তির টাকা নিয়ে রয়েছে জটিলতা। এদিকে ডিন অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয়, ডিন বৃত্তির বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪তম রিজেন্ট বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাবিপ্রবির মেধাবী শিক্ষার্থীদের নতুন তিনটি অ্যাওয়ার্ড (ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড, ভাইস-চ্যান্সেলর্স মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড) প্রদানের বিষয়টি পাশ হয়। পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাত্র একটি বৃত্তি (ডিন বৃত্তি) প্রদান করা হতো। যার শর্ত ছিল, শিক্ষার্থীকে প্রতি লেভেলে (দুই সেমিস্টার) গড়ে ৩.৭৫ বা তদূর্ধ্ব পেতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী উক্ত শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তাদের ডিন বৃত্তি হিসেবে পতি লেভেলে (দুই সেমিস্টারে এক লেভেল) ১২০০ টাকা প্রদান করা হবে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম রিজেন্ট বোর্ডে ডিন বৃত্তির সেই ১২০০ টাকাকে ১০ হাজারে উন্নীত করার পাশাপাশি নতুন দুটি অ্যাওয়ার্ড সংযুক্ত করা হয়। বিল পাশ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রাপ্তির জন্য আবেদন করার জন্য নোটিশও প্রকাশ করে ডিন অফিস। কিন্তু আবেদন নিলেও কার্যত নেই কোনো পদক্ষেপ। 

Advertisement

শিক্ষার্থীরা বলেন, নতুন এই বৃত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিন অফিস থেকে যুক্তিযুক্ত কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ডিনস লিস্ট অ্যাওয়ার্ড এর শর্ত নিয়েও কাটছে না জটিলতা। শিক্ষার্থীদের দাবি অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তিতে দুই সেমিস্টারে গড় জিপিএ- ৩.৭৫ (৪.০০ স্কেলে) উল্লেখ থাকলেও ডিন অফিস থেকে বলা হচ্ছে দুই সেমিস্টারেই পৃথকভাবে জিপিএ- ৩.৭৫ বা তদূর্ধ্ব থাকতে হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি দেওয়া হয় একাডেমিকে উৎসাহ বাড়ানোর জন্য। আমরা এখন দ্বিতীয় বর্ষের শেষ পর্যায়ে। ১ম বর্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে ডিন অফিসে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলাম। এরপর প্রায় ৬ মাস কেটে গেছে। এখন আমাদের আগের নিয়মে ডিনস লিস্ট অ্যাওয়ার্ডের ১২০০ টাকা দেওয়া হবে নাকি নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে এ বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া বৃত্তির টাকা দিতে যে ধীরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনে উৎসাহের বদলে হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

এদিকে কৃষি অনুষদের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ২৪ আগস্ট ২০২৩ প্রকাশিত কৃষি অনুষদের ডিন লিস্ট বৃত্তির যোগ্যতা একই অ্যাকাডেমিক ইয়ারে এভারেজ ৩.৭৫ অথবা প্রত্যেকটিতে ৩.৭৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমরা অনেকেই এভারেজ ৩.৭৫ বা এর বেশি পেয়েছি। এ বিষয়ে ডিন অফিসে কথা বললে, তখন বলা হয়, ‘এভারেজপ্রাপ্তদের দেয়া হবে না’। আমি তাদের নোটিশ দেখালে তারা বলে এটা ভুল আছে। এটা পরের রিজেন্ট বোর্ডে সংশোধন করা হবে। যা প্রকাশিত ডিন লিস্ট বৃত্তির যোগ্যতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে গড় রেজাল্টের বিষয়টি ভুল ছিল। এটা সংশোধন করা হচ্ছে। এবং এই বিজ্ঞপ্তি শুধু ১৪ আগস্ট ২০২৩ এর পর প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে উক্ত অ্যাওয়ার্ডগুলো দেওয়া হবে। যেমন কৃষি অনুষদের লেভেল-৪ এর সেমিস্টার-১ এবং সেমিস্টার-২ এর রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে উক্ত তারিখের পরে। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় ৫৫ জন মনোনীত হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই তার লিস্ট প্রেরণ করেছি। 

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ৫৪তম রিজেন্ট বোর্ড সভার আগে যেসব ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে কথা বলা হবে। মিটিংয়েই বৃত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কোনো সংশোধন থাকলে সেটা পর্যালোচনা হবে। আপাতত পূর্বে প্রকাশিত রেজাল্টের ডিন বৃত্তির কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: হাবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!