অধ্যাপক ড. শ্রীপতি সিকদার তিসি সম্পর্কে বলেন, তিসি তেল ও আঁশ উৎপাদনকারী একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর বেগুনি নীল ফুল ভোরবেলায় ফোটে এবং বিকেলে ঝরে যায়। এর কাণ্ডের বাকল বা ছাল থেকে আঁশ তৈরি করা হয় যা বিদেশে সুন্দর লিনেনজাতীয় বস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও তিসির বীজ থেকে উৎপন্ন হয় ভেষজ তেল। যাতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী সব গুণাগুণ। ছাপাখানার কলিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। মূলত তিসির চাহিদা এবং ব্যবহার বহুমুখী।
গবেষণা নিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে ভোজ্য তেলের সংকট কমবেশি সবসময়ই পরিলক্ষিত হয়। তিসি এমন একটু উদ্ভিদ যা ভোজ্য তেলের সংকট নিরসনে অবদান রাখতে পারবে। তিসি আবহমানকাল থেকেই আমাদের দেশে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে নানা কারণে এটির চাষ এখন কমে প্রান্তিক হয়ে গেছে। কিন্তু এটি আমাদের দেশের পরিবেশের সঙ্গে উপযোগী একটি শস্য।
.png)
আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাসহ ভারত ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে তিসির প্রায় ২০টি জিনোটাইপ সংগ্রহ করেছি। পরবর্তীতে সিলেকশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ তিন বছর পর্যবেক্ষণের পর আমরা এই উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি।

গবেষণায় থেকে কি কি উপকার পাওয়া যাবে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. শ্রীপতি সিকদার আরো বলেন, গবেষণাটির মাধ্যমে কৃষক তিসি চাষে আগ্রহী হবে। কেননা নতুন এই তিসি চাষে তারা লাভবান হতে পারবে। এছাড়াও এর ঔষধি গুণের জন্য ভোজ্য তেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিসির উৎপাদন ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের গবেষণা কার্যক্রমে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. গোলাম ফারুক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. গোলাম ফারুক বলেন, গবেষণার মাধ্যমে প্রান্তিক শস্যগুলো ধরে রাখা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশবাসী তিসির উপকারিতা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাবে। এছাড়াও এই তৈল জাতীয় শস্যের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়বে।
হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান বলেন, তিসির মেডিসিনাল ভ্যালু অনেক বেশি। এই গবেষণা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। বর্তমানে আমাদের সেন্ট্রাল ল্যাবসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব ব্যবহার করে তিসি নিয়ে আরো উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং এর অর্থায়নে ২০২২ সাল থেকে উচ্চ ফলনশীল তিসির জাত নিয়ে গবেষণা করছেন প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার ও তার শিক্ষার্থীরা।