ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বিলুপ্তপ্রায় ‘চিঠি’ প্রাণ পেল ইবির কুহেলিকা উৎসবে

তাজমুল জায়িম, ইবি
প্রকাশিত: ১৪:৫২, ২৪ জানুয়ারি ২০২৪
বিলুপ্তপ্রায় ‘চিঠি’ প্রাণ পেল ইবির কুহেলিকা উৎসবে
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বিলুপ্তের পথে প্রাচীন যোগাযোগমাধ্যম হস্তলিখিত চিঠি। একসময় প্রিয় ব্যক্তিকে নিজের আবেগ-অনুভূতি জানানো হতো হস্তলিখিত চিঠিতে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারসহ নানা মাধ্যম সহজলভ্য হওয়ায় চিঠির প্রচলন নেই বললেই চলে। তবে প্রযুক্তির আশ্রয়ে এসব মাধ্যম চিঠির মত আবেগ অনুভূতি ধারণ করতে পারে না বলে মনে করেন অনেকেই।

আবেগ-অনুভুতির ধারক-বাহক অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া সেই চিঠির প্রচলন ফিরে আনতে ‘চিঠি বাক্স’র ব্যবস্থা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় বন্ধুদের প্রতি নিজের আবেগ অনুভূতি হাতে লিখে বাক্সে জমা দিচ্ছেন। আর এই চিঠি প্রেরকের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিবে অভয়ারণ্যের সদস্যরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী কুহেলিকা উৎসবে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে সংগঠনটি। গত সোমবার শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে বুধবার পর্যন্ত। আর এই চিঠিগুলো অভয়ারণ্যের সদস্যরা আগামী ২৫ তারিখ হতে গন্তব্যে পৌঁছে দিবেন।

Advertisement

চিঠি বাক্সের দায়িত্বে থাকা অভয়ারণ্যের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুহেলিকা উৎসবের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এ চিঠিবাক্সে দুই শতাধিক চিঠি জমা পড়েছে। সংগঠনটি এই প্রতিটি চিঠির জন্য ১০টাকা করে নিচ্ছে বলে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহের মধ্যে যেকোনো জায়গায় তারা এ চিঠি পৌঁছে দিবেন।

চিঠি বাক্সের দায়িত্বে থাকা অভয়ারণ্যের সদস্য তুষার বলেন, ‘চিঠিপত্র আদান-প্রদান আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। কিন্তু আধুনিক যুগে চিঠিপত্রের আদান-প্রদান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে সামান্য হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরে দাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন।

অনেকেই নিজের মনের ভাব সামনা সামনাসামনি একে অপরকে জানাতে পারে না। আমরা সেই না বলা অভিব্যক্তিকে পরিচয় গোপন রেখে তার নিকট পৌঁছে দিব।’

এ বিষয়ে আইন বিভাগের তানিম বলেন, ‘চিঠির মাধ্যমে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে যেভাবে বলা যায় সামনাসামনি সেভাবে বলা সম্ভব হয় না। এছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলে সেই তৃপ্তিটি পাওয়া দুষ্কর। অভয়ারণ্যের এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে আমার না বলা কথাগুলো বলার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভয়ারণ্যের সভাপতি ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, ‘আমরা গত বছরের ন্যায় এবারো এ আয়োজন করেছি কুহেলিকা উৎসব নামে। এ উৎসবে অসংখ্য আয়োজন রয়েছে এর মধ্যে একটি বিশেষ আয়োজন হলো চিঠিবাক্স। যেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা চিঠির মাধ্যমে আরেকজনের কাছে পৌঁছে দিবে। আর এর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছি আমরা। একজনের কথা আরেকজনের নিকট দিতে পারলে সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।’ 

প্রসঙ্গত, ‘শান্তি ও সংস্কৃতিতে অভয়ারণ্য’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে পাখি চত্বর প্রতিষ্ঠাই, পাখিদের স্থায়ী বাসস্থান এবং খাদ্য নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কার্যক্রম করে চলেছে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে গড়া সংগঠন ‘অভয়ারণ্য’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!