জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ল্যাব সহকারী আবদুল আউয়াল বিভাগের ল্যাবে ব্যবহৃত সুইজারল্যান্ডের সুইস অ্যালবিনো প্রজাতির ধবধবে সাদা দুটি ইঁদুর নিয়ে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় শুরু করেন ইঁদুর পালন। তিনি ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অফিস সহকারী নাসির উদ্দিন গড়ে তুলেন একটি ফার্মও। ‘কুমিল্লা মাইচ ফার্ম’ নামে পরিচিত পেয়েছে এরই মধ্যে। এই ফার্মে প্রজনন শুরু হয় মাত্র দুটি ইঁদুর থেকে। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তারা শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে।
হাজারের বেশি সাদা ইঁদুর উৎপাদন হয়েছে ফার্মটিতে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ল্যাবে প্রয়োজনীয় ইঁদুর সরবরাহ করছে এই ফার্ম। ফার্মে ছোট থেকে প্রায় ৩০-৩৫ গ্রামের ইঁদুর পাওয়া যায়। তবে ২০-২৫ গ্রামের মাইচের চাহিদা বেশি। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলেও ভবিষ্যতে এটি এগিয়ে নিতে চ্যালেঞ্জের মুখামুখি হবেন বলে শঙ্কা আবদুল আউয়ালের।
.png)

আবদুল আউয়াল বলেন, আমি মূলত দুইটি ইঁদুর নিয়ে কাজ শুরু করি। যেহেতু আমি একজন ল্যাব সহকারী, সেখানে প্রয়োজনীয় ইঁদুর আমাকেই নিয়ে আসতে হত অন্য জায়গা থেকে। এছাড়া আমি পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রজনন প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জানতে পারি। তাই আমি নিজেই ইঁদুর উৎপাদন করার চেষ্টা করি এবং সেটি অল্প সময়ে করতে পেরেছি। ইঁদুর উৎপাদনের পরিকল্পনা মাথায় আসার কারণ হলো এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণামুখী হচ্ছে। এছাড়া ফার্মেসি বিভাগ ও মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ইঁদুর অবশ্যই প্রয়োজনীয়, সে কথা বিবেচনা করেই মূলত শুরু করা। এখন প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, দুইটি ইঁদুর থেকে শুরু করলেও এখন প্রায় এক হাজার ইঁদুর আমার খামারে আছে। চারটি স্তরে মোট পাঁচশত ইঁদুর বিক্রি করতে পেরেছি। প্রয়োজন অনুসারে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে আমরা নিয়মিত সরবরাহ করছি। আমরা দুজন চাকরির পাশাপাশি এখানে সময় দেই। এখন বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছি, তবে পরিপূর্ণভাবে বিক্রি করতে পারছি না। কারণ এটি সেমিস্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যখন প্রয়োজন হয় তখনি সরবরাহ করতে পারি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল আউয়াল বলেন, আমরা যখন শুরু করি, তখন ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এনিম্যাল প্লান্ট তৈরি করে সেখানে উৎপাদন করছে। যার কারণে আমরা আসলে কতোটা এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারব কিনা জানা নেই। তবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

এদিকে কর্মচারীদের ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফার্মেসী বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মানসুরা তালুকদার বলেন, এটি অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ। কারণ ফার্মেসি বিভাগের বিভিন্ন কোর্সের অংশ হিসেবে ইঁদুর নিয়ে গবেষণা করতে হয়, এটি আমাদের কারিকুলামেরও অংশ। কোনো একটি মেডিসিন তৈরি করা এবং এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে ইঁদুর ব্যবহার করি আমরা। আমাদের ল্যাবে আগে ইঁদুর ছিল না, যার কারণে অন্যান্য ল্যাব থেকে নিয়ে আসতে হতো। কিন্তু সেখানে ইঁদুর মারা যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এখন যেহেতু ক্যাম্পাসের পাশেই পাওয়া যাচ্ছে তাহলে সেটা অবশ্যই পজিটিভ দিক। প্রয়োজনীয় ইঁদুর এনে শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘কুমিল্লা মাইচ ফার্ম’ হওয়ার ফলে ফার্মেসি বিভাগসহ অন্যান্য যেসব বিভাগ গবেষণা করছে তাদের জন্য গবেষণা সহজলভ্য হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। এখানে স্বল্পমূল্যে ভালো মানের যে ইঁদুর আছে সেটা পাচ্ছে বলে আমি জানতে পারছি। এটি অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ, এমন উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।