বৃষ্টি যেন প্রকৃতির রাধা। বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালো লাগে। আর সেই বৃষ্টি যদি হয় ক্যাম্পাসে। ব্যস্ত ক্যাম্পাসে হঠাৎ বৃষ্টি যেন এনে দেয় গম্ভীর নীরবতা। পিচঢালা রাস্তায় বৃষ্টির ফোটাগুলো যেন বর্ষার দাম্ভিকতার জানান দেয়। বৃষ্টি মানে মধুর কলতান! বৃষ্টি মানে আকাশে কালো মেঘের মিছিল। বৃষ্টির দিনে দুপুর যেন অলসতার মূর্ত প্রতীক, শান্ত বিকেলে নিস্তব্ধ চারদিক। বৃষ্টির দিনের মৌনতা যেন মানবিকতাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

.png)
ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোর মধ্যে অমলিন হয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের সময়গুলো। সবুজ ক্যাম্পাসে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা উপভোগ করার মতো। বৃষ্টিতে ভেজার মধ্যেও একটা প্রাকৃতিক আবহ ও ভালোবাসা বিদ্যমান। কেউ বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা-গানে, প্রিয়জনের সঙ্গে আলাপচারিতা কিংবা অনেকের কাছে বৃষ্টির দিনগুলো মানেই প্রিয়জনের সঙ্গে রিকশা ভ্রমণ। একই ছাতার নিচে আধভেজা হয়ে একান্ত সময় কাটানো। আবার কেউবা খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে তাদের ভালোবাসাকে অভ্যর্থনা জানায়।
বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আর বেঁধে রাখতে পারে না। দলবেঁধে ছুটে যায় বৃষ্টিতে ভিজতে। ক্লাস-পরীক্ষার প্রচুর চাপ থেকে এক পশলা বৃষ্টি ক্যাম্পাস জীবনে সতেজতা নিয়ে আসে। নিজ ক্যাম্পাসে বৃষ্টির দিনে জীবনটাকে সতেজ করে তুলেন শিক্ষার্থীরা।
বৃষ্টিস্নাত দিনে একঝাঁক তরুণ- তরুণীর জীবনে এই বর্ষায় বৃষ্টির সজীবতার ছোঁয়া লেগেছে সবুজ ছায়ায় ঘেরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়(বেরোবি) ক্যাম্পাসে।
_1693652285.jpg)
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে যায় বৃষ্টির পরশে। আমবাগান, জিরো পয়েন্ট, দেবদারু রোড, প্রশাসনিক ভবনের সামনে, স্বাধীনতা স্মারক প্রাঙ্গণে লেগেছে বৃষ্টির ছোঁয়া। দেবদারু রোডের গাছগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শিক্ষক ডরমিটরির আমবাগানের গাছের পাতাগুলো যেন বৃষ্টির ছোঁয়ায় ফিরে পেয়েছে নিজের অস্তিত্ব। এ ছাড়াও বকুল ফুলের গন্ধে ভরে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলা।
শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, আষাঢ়ের ধারার ছোঁয়া লেগেছে বেরোবি শিক্ষার্থীদের মনেও। এই বৃষ্টির দিনে বন্ধুরা সবাই মিলে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ার মজাই আলাদা। কেউ চা হাতে নিয়ে জানালার ধারে বসে আকাশের কান্না দেখে, কেউবা প্রিয় মানুষের হাত ধরে উপভোগ করে বৃষ্টির স্নিগ্ধতা। কেউ অলস শরীর বিছানায় এলিয়ে দিয়ে উপভোগ করে ঘুম, কেউ প্রিয় গানের সুরে গলা মিলিয়ে উপভোগ করে বৃষ্টির ছন্দপতনের সুর। কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে জ্বর বাঁধিয়ে ফেলে। উদাসী মনে জানালার দিকে তাকিয়ে কেউ চিন্তা করে একটা ভালো চাকরি পেয়ে পরিবারের হাল ধরার। একেক শিক্ষার্থীর মনে বৃষ্টি নিয়ে আসে একেক ধরনের মুহূর্ত। কারো কাছে সেই মুহূর্ত ধরা দেয় আনন্দের হয়ে, আবার কারো কাছে হয়ে উঠে বেদনার।

লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিন রানা বলেন, ক্যাম্পাসে থাকলে প্রকৃতির খুব কাছে থেকে বৃষ্টি উপভোগ করা যায়। হঠাৎ করে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে গেলে মনে হয় বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। আজকে যখন বৃষ্টি শুরু হলো তখন আমি কয়েকজনকে বন্ধু -বড় ভাইদের ফোন দেই। এরপর আমরা দলবেঁধে ক্যাম্পাস জীবনে বৃষ্টি উপভোগ করি। এটি আমার জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বৃষ্টিতে ভিজতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বৃষ্টির দিনে ক্যাম্পাসে থাকতে জীবনটাকে সতেজ লাগে। বর্ষাকালে তো আরো সুন্দর। মন চাইলে বৃষ্টিতে ভিজি। বর্ষার মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরতেও কোনো সমস্যা হয় না। আমার মনে হয় যারা ক্যাম্পাসে থাকে না তারা ক্যাম্পাসের এই দিনগুলো কোনোদিনও বুঝবে না।’