বলছিলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলামের কথা।
শরিফুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনে ভর্তি হন। থাকেন চবির এ এফ রহমান হলে।
.png)
কোনো প্রতিবন্ধকতা যাকে দুর্বল করতে পারেনি। হার না মানা মনোভাব আর পড়ালেখার প্রতি অদম্য আগ্রহ নিয়ে তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পড়ালেখার খরচ সামলাতে সিদ্ধান্ত নেন নিজেই কিছু একটা করবেন। সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন খাতা প্রস্তুত। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাই বেশিরভাগ তার ক্রেতা। আর তার প্রস্তুতকৃত খাতার নাম দিয়েছেন ‘পদ্মা সেতু’।
শরিফুল জানালেন, আমার নিজের নির্মাণ করা এই খাতাগুলোর নাম ‘পদ্মা সেতু’। আমি হলের ছেলেদের কাছে এগুলো বিক্রি করি। প্রতিটি খাতার দাম রাখা হচ্ছে ২০ টাকা। যখনই সুযোগ পাই হলের রুমে রুমে গিয়ে বিক্রির চেষ্টা করি।
খাতা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়াতে শিক্ষার্থীদের থেকে বেশ সাড়া পেয়েছেন বলে জানান শরিফুল। বলেন, আমি হলের প্রতিটি রুমে গিয়ে খাতা বিক্রি করি। সবাই সাদরে গ্রহণ করছে। কেউ তেমন ফিরিয়ে দেয় না। এটাতে আমি বেশ সাড়া পেয়েছি। সবাই কমবেশি সহযোগিতা করে।
খাতা প্রস্তুতের বিষয়ে জানালেন শরিফুল। বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ পেলেই আমি গ্রামের বাড়িতে ছুটে যাই। বাড়িতে নিজে খাতাগুলো তৈরি করি। এ সময় পরিবারের সদস্যরাও সাধ্যমতো সাহায্য করেন। ছুটি শেষে খাতাগুলো বিক্রির জন্য ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি। একসঙ্গে অনেকগুলো খাতা নিয়ে এলাম। হলের ছেলেদের কাছেই এগুলো বিক্রি করি।
নিজের ব্যক্তি জীবন নিয়ে তিনি বলেন, আমি অন্ধ হওয়ার কারণে নিজের পরীক্ষা নিজে দিতে পারি না। শ্রুতিলেখক নেওয়া লাগে। শ্রুতিলেখকের মাধ্যমেই পরীক্ষা দিতে হয়। অনেক সময় শ্রুতিলেখক পাওয়া যায় না। বেকায়দায় পড়ে যাই।
অতীতের স্মৃতি মনে পড়ে শরিফুলের। কেমন ছিল সেসব দিন? বলেন, আমি জন্মের পর থেকে কিছুই ঠিকভাবে দেখতে পাই না। সব কিছুই ঝাপসা লাগে। ছোটবেলায় আমার বাবা-মা আমাকে নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু, কিছুই তেমন হলো না। ডাক্তার বলেছে যে আমি জন্ম থেকেই অন্ধ হওয়াতে কিছু করা যাবে না।
শরিফুলের এমন উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ আর ইতিবাচক সাড়া দেখাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। সেখানে তার প্রস্তুতকৃত খাতা পদ্মাসেতু কিনতে চান বহু শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে খাতা তো আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। শরিফুল ভাইয়ের প্রস্তুতকৃত খাতার খবর পেয়ে সেগুলো এখন থেকে কিনার চেষ্টা থাকবে। তার খাতার মানও ভালো আবার দামও কম। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তার এমন উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে।