ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ডিজিটাল যুগেও ‘অ্যানালগ’ চবি!

রুমান হাফিজ, চবি 
প্রকাশিত: ১৬:২৬, ২৮ আগস্ট ২০২৩
ডিজিটাল যুগেও ‘অ্যানালগ’ চবি!
চবিতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বিশাল জটলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরীক্ষার দুই সপ্তাহ আগে ডিপার্টমেন্ট, হল, ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি আর পেপার ওয়ার্ক আমাদের হতাশ করে। চার থেকে পাঁচদিনের এই দুর্ভোগে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ক্ষতি অনেক। আর ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্যে দীর্ঘ লাইন কি করোনার ঝুঁকি বাড়ায় না? আধুনিকতার এই যুগে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আরাফাত অর্ণব।

শুধু অর্ণবই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অ্যানালগ পদ্ধতির ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অর্ধশতাব্দী পার করলেও অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো সেকেলে পদ্ধতিতে রয়ে গেছে। যদি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই সব সম্পন্ন করতে পারতেন। ডিজিটালাইজেশনে দেশকে এগিয়ে নিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। সরকারের সব দফতরগুলোতে ই-সেবা দেওয়ার পাশাপাশি চালু হচ্ছে ই-ফাইল কার্যক্রম। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করছেন। চবি প্রশাসনের একটু আন্তরিকতা থাকলে সবই বদলানো সম্ভব।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বর্ষ শেষে আরেক বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবার নতুন করে অনেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে চারটা অফিস প্রধানের স্বাক্ষর লাগে। এসব স্বাক্ষর নিতে শিক্ষার্থীদের এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হয় সশরীরেই। যার জন্য শিক্ষার্থীদের অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। একইভাবে হারিয়ে যাওয়া মার্কশিট উত্তোলন, সনদপত্র উত্তোলন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড উত্তোলন, প্রশংসাপত্র উত্তোলন, এপিয়ার্ড সার্টিফিকেট উত্তোলন, পরীক্ষার ফরম পূরণসহ শিক্ষার্থীদের প্রায় সবকিছুই এই প্রক্রিয়ায় করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এইচ আতাহারের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুরে। তিনি বলেন, করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়িতেই ছিলাম। এখন হঠাৎ করেই পরীক্ষার জন্য বিভাগ থেকে ফরম পূরণ করতে বলা হলো। সিলেট থেকে এসে এখানে ফরম পূরণ করে একদিনে চলে যাব সেটা অসম্ভব। একবার হলে তো আরেকবার বিভাগে আবার ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা। এগুলো করতে করতেই সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। ডিজিটাল যুগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অ্যানালগ সিস্টেমে হওয়ায় আমাদের প্রচুর ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় বিভাগের বার্ষিক পরীক্ষার নিকটবর্তী হওয়াতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হচ্ছে। বিশাল জটলা ব্যাংকের ভেতর৷ বাইরেও শিক্ষার্থীদের সারি। শিক্ষার্থীরা একটু আশ্রয় খুঁজছেন, যাতে ব্যাংকের রসিদ রেখে তা পূরণ করা যায়। বুথ জুড়ে দীর্ঘ সারি। এক ব্যাংকের শাখায় তা সামাল দেওয়া দুষ্কর।

শিক্ষার্থীরা জানান, চবির অগ্রণী ব্যাংকের দুই থেকে তিন বুথে টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও একটি বুথে মাত্র দুইজন কখনো আবার মাত্র একজন জনবল দিয়ে টাকা নেওয়া হয়।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘আধুনিকতার এই যুগে এনালগ পদ্ধতির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। যেখানে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ঢাবি, জাবি, সাস্ট ও জবিসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আধুনিকতাকে বরণ করে নিয়েছে। তাদের অনেক ডিপার্টমেন্টেই অনলাইনে হচ্ছে ফরম ফিলাপের সমস্ত কার্যক্রম। অথচ আমাদের চবিতে পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় দুর্ভোগ। এসব কার্যক্রম যদি অনলাইনে হত তাহলে সবাই উপকৃত হবে।

সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানিম হোসেইন। এক সপ্তাহ ধরে বিভাগের অফিস, আবাসিক হলের অফিস, প্রশাসনিক ভবন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে তাকে। বললেন, করোনার এই ভয়াবহ সময়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে এসে কোথায় থাকব তা বুঝতে পারছি না। ডিজিটাল বাংলাদেশে চবির এমন আচরণ যেন হয়রানির মতো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার সবুজ কুমার দত্ত বলেন, এই প্রক্রিয়াটি ডিজিটালাইজড করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ফুল ডাটাবেজ চাওয়া হয়েছে, তা হাতে পেলে আমরা কাজ করতে পারব।

চবি আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় ফরম পূরণ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার মত এতো সময় থাকে না। আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসার জন্য। বেশ কয়েকটি দফতরের সঙ্গে জড়িত থাকায় ঐ দফতরগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহমেদ বলেন- অনলাইন বা অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যাংকিং সিস্টেম বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে তবে ঠিক কবে নাগাদ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না, আশা করছি অতি দ্রুত শেষ করা যাবে। যেহেতু আমাদের অ্যাডমিশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে হচ্ছে নিজের সফটওয়্যারে মাধ্যমে। আস্তে আস্তে এটাও হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: চবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!