ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চবির ফরেস্ট্রি: দৃষ্টির পিপাসা মেটানো দৃশ্য

রুমান হাফিজ, চবি 
প্রকাশিত: ২০:১৭, ১৫ জুলাই ২০২৩
চবির ফরেস্ট্রি: দৃষ্টির পিপাসা মেটানো দৃশ্য
দুদিকে দুটি রাস্তার মোড় চোখে পড়বে। বাম দিকের রাস্তাটাই ফরেস্ট্রির। 

শাটল কিংবা বাসে চেপে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে গেলেই স্মরণ চত্বর। এই চত্বর থেকে বাম দিকের রাস্তাটাই ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়ানমেন্টাল সায়েন্স। যাতায়াতের জন্য ক্যাম্পাসের যানবাহন পাওয়া যায়। স্মরণ চত্বর থেকে একটু সামনে এগুলেই বউ বাজার। এরপর সাউথ ক্যাম্পাস আসতেই মসজিদের সামনে দুদিকে দুটি রাস্তার মোড় চোখে পড়বে। বাম দিকের রাস্তাটাই ফরেস্ট্রির। 

একটু পর দেখা মিলবে রাস্তার দুপাশে সবুজ প্রকৃতি, হরেক রঙের পাতা আর ডালপালায় আচ্ছাদিত বনভূমির মতোই পিচঢালা পথ। একা একা হাঁটতে হালকা ভয় ভয় অনুভূতি হলেও ভয়ের কিছুই নেই। ডানদিকে তাকালে মনে হবে গহীন অরণ্যের মধ্যখান দিয়ে পথ। আবার বাম দিকে তাকালে চোখে পড়বে গাছ-বাগান। আছে বিশাল শস্যভূমি, যেখানে কৃষকেরা নানান ফসল উৎপাদন করেন। এভাবে মিনিট দুয়েক পথ সামনে- রাস্তার মধ্যখানে একটি সাইনবোর্ডের দুপাশে আবারো দুটি রাস্তার দেখা মিলবে। 

ইন্সটিটিউটে রয়েছে একটি উন্নতমানের গবেষণা কেন্দ্র।

Advertisement

ডানপাশের রোড ধরে এগুতেই ফরেস্টি ইন্সটিটিউটের প্রশাসনিক ভবন। তবে বাম পাশের রোডটা ‘কাপল রোড’ হিসেবেই বেশি পরিচিত! এই রোডের দুপাশে বসে গল্পে মজেন প্রেমিক-প্রেমিকা। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে এই রাস্তায় সমাগম ঘটে বহু মানুষের। ফরেস্ট্রিতে ঘুরতে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে এই কাপল রোডকেই বাছাই করা হয়। বন আর লেকের মধ্যখান দিয়ে এই কাপল রোড।  

আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ একুশ শত একরের ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রাচ্যের রাণী। আর ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়ানমেন্টাল সায়েন্স প্রায় ৫৫০ একর জুড়ে অবস্থিত। 

 বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে এই রাস্তায় সমাগম ঘটে বহু মানুষের।

একটুখানি ইতিহাস: 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৬ সালে ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি নামে যাত্রা করে এ প্রতিষ্ঠান। এ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ। শুরুতে বন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিতেন এই ইনস্টিটিউট থেকে। এরপর ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে এটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে পরিণত হয়। সে বছরই চালু হয় স্নাতক কোর্স। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। সে বছরই ইনস্টিটিউটের নাম বদলে রাখা হয় ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। ২০০০ সালে এখানে পরিবেশবিদ্যাও (এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স) চালু হয়।

যেখানে বন বনানী সহ রয়েছে ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছেলে এবং মেয়েদের জন্য থাকার পৃথক দুটি আবাসিক হল, খাবারের ক্যান্টিন, মসজিদ, খেলার মাঠ, গেস্ট হাউস, উন্নত মানের নার্সারি, কাপল রোড, ক্রিস্টমাস বৃক্ষ, মাস্টার দা সূর্যসেনের ভাস্কর্য, স্বচ্ছ পানির লেক, ছবি তোলার জন্য রয়েছে গ্রাফিত্তি, আলপনা অঙ্কিত রাস্তা ও সিঁড়ি, কাঠের পুল ছাড়াও রয়েছে ঘুরে-বেড়ানোর বাঁশ বাগান।

গ্রাফিত্তি, আলপনা অঙ্কিত রাস্তা।

ইন্সটিটিউটের একাডেমিক ভবনের সামনেই বিশাল সাইনবোর্ডের মতো দর্শনার্থীদের ছবি তোলার গ্রাফিত্তিসহ মনোরম পরিবেশের বাগান। যেখানে বসে আড্ডা-গল্পে মেতে উঠা যায়। মনে হবে পুরো প্রকৃতিটাই তার সৌন্দর্য আপনার জন্য মেলে ধরেছে। এখান থেকে ছেলেদের আবাসিক হল পর্যন্ত পুরোটা রাস্তাই আলপনা অঙ্কিত।

ছেলেদের হলের সামনে রয়েছে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা মাস্টার দা সূর্যসেনের ভাস্কর্য, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাস্কর্য হিসেবে নির্মিত হয়েছে। একাডেমিক ভবনের পূর্বদিকেই অবস্থিত খেলার মাঠ। খেলার মাঠ যেতেই গেস্ট হাউসের সামনে ক্রিস্টমাস বৃক্ষসহ প্রশাসনিক ভবনে ওঠার জন্য চোখে পড়বে রঙের আলপনা অঙ্কিত সিঁড়ি।

লেকের পার ঘেঁষে চতুর্দিকে আবৃত রাস্তা ধরে হাঁটতে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে।

এর বিপরীত পাশেই অবস্থিত ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর স্থান তথা উন্নত মানের নার্সারির। লেডিস হল এবং একাডেমিক ভবনের মাঝখান দিয়ে কাঠের পুল বেয়ে ওপারে পৌঁছালেই বাঁশ বাগান এবং লোকালয়। 

ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়ানমেন্টাল সায়েন্সের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ উদ্দিন খান জানালেন, ক্যাম্পাসের প্রায় ৫৫০ একরে এই ইন্সটিটিউটি অবস্থিত। আমরা জানি বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণে বনভূমি থাকার কথা সেটা নেই। আর বনভূমি কমে যাওয়ার কারণে আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা নানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই প্রতিটা ফরেস্টি সাবজেক্টটা এখন বেশ প্রয়োজন। 

ঘুরে বেড়ানোর জন্যও সুন্দর একটি পরিবেশ।

ইন্সটিটিউটে রয়েছে একটি উন্নতমানের গবেষণা কেন্দ্র। যেখানে বিভিন্ন গাছের উৎপাদন ক্ষমতা, কোন মাটিতে কোন গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পাবে, কোন খনিজ পদার্থ কোন গাছের জন্য কি পরিমাণে প্রয়োজন, কতো তাপমাত্রা কোন গাছের জন্য অনুকূল বিষয়গুলো গবেষণা করা হয় বলেও জানান ইন্সটিটিউটের এই শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মুশতারি নাফিস বলেন, ক্যাম্পাসের সুন্দর জায়গাগুলোর মধ্যে ফরেস্ট্রি অন্যতম। ঘুরে বেড়ানোর জন্যও সুন্দর একটি পরিবেশ। লেকের পার ঘেঁষে চতুর্দিকে আবৃত রাস্তা ধরে হাঁটতে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। এছাড়াও, ফরেস্ট্রির সঙ্গে পরিবেশের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, গাছপালা ঠিক থাকলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন উৎপন্ন হবে, পরিবেশ শীতল থাকবে, দেশের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: চবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!