জানা যায়, গত ২৪ জুন ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘বাণিজ্য’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নাজমুন্নাহার স্বর্ণা মায়ের কোলে উঠে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাণিজ্য ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হলে জানা যায় তিনি ৭১ দশমিক ৬২ পেয়ে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে বেড়ে উঠা স্বর্ণা ছোটবেলা থেকেই মায়ের কোলে উঠেই চলাচল করেন। মায়ের কোলে করেই স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে এই পর্যন্ত আসা তার। স্বর্ণার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পরিবার ও দেশের সেবা করা।
.png)
নাজমুন্নাহার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার সংগ্রামের সারথি আমার মা। মায়ের কোলে উঠেই আজকে আমার এই পর্যন্ত আসা। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও বয়স্ক মা-বাবার কথা জানিয়ে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যেমন আনন্দিত তেমন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এতগুলো টাকা দিয়ে ভর্তি হতে পারব কিনা সেটা নিয়ে।’
ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি স্বর্ণার প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়ে মা মনিজা বেগম জানান, আজ আমি অনেক খুশি- আমার স্বর্ণা সাত কলেজে চান্স পেয়েছে। অর্থাভাবে মেয়েকে ভর্তি করানো ও পড়ালেখার খরচ চালানোর বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তার কথাও জানান তিনি।
জানা যায়, স্বর্ণারা তিন বোন। তিন বোনের মধ্য ছোট স্বর্ণা। পিতা বৃদ্ধ শাহাদাৎ হোসেন হাওলাদার একজন দিনমজুর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। মা বৃদ্ধা মনিজা বেগম একজন গৃহিণী। স্বর্ণা ইন্টারমিডিয়েট পড়ালেখা করেছেন স্বরূপকাঠি সরকারি কলেজে। তার এসএসসির রেজাল্ট জিপিএ ৪.৫৯ এবং এইসএসসির রেজাল্ট জিপিএ ৪.৭৫।
মা মনিজা বেগম বলেন, ‘জন্মগতভাবেই স্বর্ণা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ছোটবেলা থেকে আমি কোলে করে স্কুল কলেজে নিয়ে যেতাম। ভর্তি পরীক্ষার সময় সব জায়গায় আমি কোলে করে নিয়ে গেছি-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য। স্কুল কলেজ সবজায়গায় পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করত। ছোটবেলা থেকেই সে পড়ালেখায় ভালো। ওর বাবার বয়স হয়েছে, তিনি অসুস্থ। আমারও বয়স হয়েছে, আগের মত আর শক্তি নেই। সবমিলিয়ে চলছে কষ্টের উপরে।