শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বায়োজিদের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে প্রতিবন্ধকতাও যেন হার মেনেছে। স্বপ্ন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) কেন্দ্রে অংশ নেওয়া ৫৭৩ জনের একজন ছিলেন বায়োজিদ। তারা বসবাস টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়া এলাকায়। দুই ভাইবোনের মধ্যে বায়োজিদ বড়।
.png)
বায়োজিদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমার ছোট থেকেই প্রোগ্রামার হওয়ার অনেক ইচ্ছে ছিল। পরে আমি টাঙ্গাইল শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হই।
বায়োজিদ আরো বলেন, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এ নিয়ে কখনো আমার মনে হীনমন্যতা ছিল না। আমি শারীরিকভাবে অন্যদের মতো না হলেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। বাবা-মায়ের উৎসাহে আজ এতদূর পর্যন্ত আসা। সত্যি বলতে, পরিবারের সবার সহযোগিতা না পেলে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।
ছেলের এমন অদম্য ইচ্ছা শক্তি দেখে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়ে পাশে থেকেছেন মা-বাবা। তাদের সহযোগিতার কারণে আজ তার এ পর্যন্ত আসা।
বায়োজিদের বাবার নাম মো. রোস্তম আলী। পেশায় ব্যবসায়ী। পরীক্ষাকেন্দ্রে বায়োজিদকে নিয়ে আসেন তার বাবা। বায়োজিদের বাবা বলেন, জন্মের এক বছর পর থেকে ছেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান সে।
তিনি আরো বলেন, এসএসসি ও এইচএসসিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়াশোনা করেছে বায়োজিদ। বায়োজিদের প্রোগ্রামার হতে চাইলেও এটা তার কাছে কল্পনা মাত্র। তাই এখন কম্পিউটার রিলেটেড যে কোনো প্রোগ্রামিং করতে চান বায়োজিদ।
প্রসঙ্গত, ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মাভাবিপ্রবি কেন্দ্রে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।