_1680779946.jpg)
রমজান মাসকে ঘিরে ক্যাম্পাস জুড়ে যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিদিনই থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ক্রিয়াশীল সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনের ইফতার আয়োজন। বিকেল গড়াতেই সরগরম হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের কিছু জায়গা। নীলদিঘীর ঘাট, হলের ছাদ, অডিটোরিয়াম ভবন, হলের সামনের ফাঁকা জায়গা, শান্তিনিকেতনের টং দোকানসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে ইফতার করেন শিক্ষার্থীরা।
.png)

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সামনে, ক্যাম্পাস সংলগ্ন টং দোকান, অভ্যন্তরীণ টং দোকান, অস্থায়ী দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। এসব দোকান ইফতার কিনে মাঠেই বন্ধু কিংবা সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে বসে ইফতার করছেন শিক্ষার্থীরা। ঐক্য, সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট যেন ভুলে গেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী কান্তা রায় তমা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে রমজান মাস আসলে আনন্দের সঙ্গে পরিচিত সিনিয়র, ব্যাচমেট, জুনিয়র, বন্ধু সবাইকে নিয়ে ইফতার করি। এখানে আমরা সব ধর্মের সবাই একসঙ্গে ইফতারে বসি। সব ধর্মের প্রতি সম্মান বজায় রেখে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মিলেমিশে ইফতার আয়োজন সম্প্রীতির একটি উদাহরণও আমার কাছে। এতে যেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তেমনি শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-জাত বিভেদ ভুলে গিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি প্রকাশ পায়।’

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শাফি মাহবুব বলেন, ‘রমজানের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সম্প্রীতি প্রয়োজন। সব শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-জাত বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে ইফতারে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রাণের নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। সাম্প্রদায়িক শক্তির মুখে একমুঠো ছাই ফেলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রাঙ্গণে, চোখ বুলিয়ে যাওয়ার মতো এই অনাবিল সুন্দর দৃশ্য ভুলবার নয়। এভাবেই সম্প্রীতির ইফতারের মাধ্যমেই বন্ধুত্বের বন্ধন হোক অটুট, সেই প্রত্যাশা।’

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান সৈকত বলেন, পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাসে এসেছি সাড়ে তিনবছর হবে। রমজান মাসে বাবা-মা ছাড়া ইফতার করাটা সবার জন্যই কম-বেশি মন খারাপের। তবুও এসব মন খারাপ মিটে যায় যখন বাবা-মা ছেড়ে আসা ১০ জেলার ১০জন বন্ধু একসঙ্গে খোলা মাঠে ইফতার করতে বসি। বাবা-মা কাছে নেই, কিন্তু সহপাঠী বন্ধুরা আছে। পরিবারের বাইরে এখানে আরেকটা পরিবারের সঙ্গে একত্রে ইফতার করার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় হচ্ছে এটা আমার বিশ্বাস।’