বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই ছিল দেড় বছর থেকে সাড়ে তিন বছরের সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে ছিল তিন বছরের সেশনজট। জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, লোক প্রশাসন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ছিল দুই বছরের সেশনজট। এছাড়াও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে তিন বছর এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দুই বছরের সেশনজট ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত-তিন থেকে চার বছর আগেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সেশনজটের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলেন। সময় মতো পড়াশুনা শেষ করতে না পারায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন সেশনজটকে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেশনজট কমিয়ে শূন্যের কোঠায় আনার পরিকল্পনা নেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবাই এমন সিদ্ধান্তের পাশে অবস্থান নেয়।
.png)
জানা যায়, কোভিড-১৯ এ শিক্ষার্থীদের সেশনজটের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি বাতিলসহ ছয়মাসের সেমিস্টার চারমাসে নামিয়ে এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টি।
অ্যাকাডেমিক সূত্রে জানা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তাদের অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করতে পেরেছে যেখানে একই শিক্ষাবর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তারা বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাথা উঁচু করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে অবকাঠামো সমস্যা কিছুটা থাকলেও খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠবে এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আমাদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার চাপে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রম।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, যে সেশনজট একসময় গলার কাটা হয়ে ছিল, সেটি এখন বলতে গেলে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে পেরেছি আমরা। যার পুরো কৃতিত্ব মাননীয় উপাচার্য মহোদয় মহোদয়ের। এত অল্প সময় এবং করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাবের পরেও যেভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি তা সত্যিই অকল্পনীয়।
ম্যানেজ ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নেই এটা শুনলেই খুশি লাগে। কারণ, একটা সময় ছিল সবাই বলাবলি করত, এখানে তো অনেক জট বের হতে। এসব চিন্তা করে খুবই আপসেট হতাম। জট এখন দূর হয়েছে। তাই বাবা-মাকে জানাতে পেরেছি যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বের হতে পারব। জটমুক্ত হবার ফলে, তাড়াতাড়ি চাকরি প্রতিযোগিতা অংশ নিতে পারব।
জিডিএস বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বরাবরই যে চাওয়া থাকে তা হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে চাকরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। আমাদের ক্যাম্পাস একটা সময় ছিল যখন ভিতরে ও বাইরে নিন্দিত হচ্ছে। তার একটাই কারণ সেশনজট নামে মাথার উপর একটা অভিশাপ নিয়ে বয়ে বেড়াতাম। তবে বর্তমানে আশার আলো উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ স্যার শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার দূরদর্শিতায় প্রাণের ক্যাম্পাস সেশনজট মুক্ত হয়েছে এটা আসলেই গর্বের বিষয়।
এ বিষয়ে বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট অন্যান্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি। তবে তা থাকা ষত্বেও সেশনজট নিরসন সম্ভব হয়েছে আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে।
সেশনজট নিরসন সম্পর্কে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বলেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার প্রথম পদক্ষেপই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত করা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার-কর্মচারী সবার সহযোগিতায় গত দেড় বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চার বছরের সেশনজট মুক্ত হয়েছে।