ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ জানালেন ঢাবি শিক্ষক

জোবায়ের হোসাইন সাকিব
প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২১ মার্চ ২০২৩
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ জানালেন ঢাবি শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

সাম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব ঘটনায় মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। 

বাসতবাড়ি, অফিস-আদালত, যানবাহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কল-কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যাসের দাম ওঠানামা করলেও ব্যবহারকারীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে দেখা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যার পরিমাণ ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। যা ২০১১ সালে ছিল ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ জন। জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জ্বালানি চাহিদাও, কিন্তু ঘাটতি রয়েছে জনসচেতনতায়। সম্প্রতি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বেড়ে যাওয়া তারই উদাহরণ।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে।

Advertisement

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কেন এতো ক্ষতি হচ্ছে? জানতে চাইলে রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের মধ্যে অত্যধিক প্রেশার থাকে। সিলিন্ডারগুলোকেও প্রেশার সহনশীল করে তৈরি করা হয়। লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মূলত তরল অবস্থায় থাকে, কোনো কারণে সিলিন্ডার যখন তাপের বা আগুনের সংস্পর্শে আসে তখন সিলিন্ডারে থাকা তরল গ্যাস বাষ্পে পরিণত হতে পারে। এর ফলে সিলিন্ডারের প্রেশার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বিস্ফোরণ হতে পারে।

ঢাবির রসায়ন বিভাগের ঐ শিক্ষক জানান, গ্যাসের লিকেজ থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস বিস্ফোরণ হতে পারে, আমাদের দেশের রান্নার গ্যাস থেকে প্রধানত এই লিকেজ হওয়া গ্যাস জমেই বিস্ফোরণ হয়। 

তিনি বলেন, আমাদের অজ্ঞতা, অসচেতনতা, গ্যাসের ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকাই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। 

অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কয়েকটি কারণ এবং এর সমাধান নিচে উল্লেখ করা হলো-
 
১) রান্নার পর অনেকেই আমরা গ্যাসের চুলা বন্ধ করতে ভুলে যাই যা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গ্যাস জ্বালিয়ে রাখা অবস্থায় যদি রান্নাঘরের জানালা বন্ধ থাকে, তবে সারা ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে হতে পারে গ্যাস বিস্ফোরণ।

২. সিলিন্ডার লিক থেকে হতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। তাই, সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। এটি পরীক্ষা করা জন্য হোসপাইপ, রেগুলেটর, ভাল্ব ইত্যাদিতে হুইল কিংবা সাবানের ফেনা লাগাতে হবে। সাবান-পানির ফোঁটা বড় হলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. অনেকেই না জেনে রান্না ঘরের জানালা বন্ধ করে রাখে যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই রান্নার আগে ও পরে রান্নাঘরের জানালা বন্ধ রাখা যাবে না, বন্ধ রাখলে গ্যাস জমে হতে পারে দুর্ঘটনা।

৪. রান্না তুলে দিয়ে অনেকেই অন্যান্য কাজ করতে যায়, যা অনুচিত। এতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রান্না তুলে চুলার আশেপাশে থাকতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে যাতে চুলা রাখার জায়গাটি পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা থাকে। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, সিলিন্ডার লিক হলেও আর সিলিন্ডার থেকে সেরকম আর বাজে গন্ধ বের হয় না। যার কারণে ঝুঁকি আরো বেশি হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, জার্মানিতে প্রায় ১৪০ বছর আগে প্রথম সরবরাহ করা গ্যাসের সঙ্গে ‘মারক্যাপটান’ নামে আলাদা একটি গন্ধযুক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়। ১৯৩৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি স্কুলে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যুর পর গ্যাসে গন্ধ মেশানোর জন্য আইনি কড়াকড়ি করার দিকে সবার নজর আসে। সব উন্নত দেশেই সরবরাহ করা গ্যাসে গন্ধ মেশানোর জন্য আইনি বাধ্যবাধকতাও আছে। তাই ব্যবহারের আগে ও পরে চেক নেওয়া জরুরি। বিদ্যুতের সুইচ অন-অফ করার আগেই গ্যাস সিলিন্ডার দেখে নেওয়া ভালো। তাছাড়া, যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে।

লেখক
ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!