ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ভিডিও)

রুমান হাফিজ, চবি
প্রকাশিত: ১০:৫৫, ১৯ মার্চ ২০২৩
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ভিডিও)
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত সব স্মৃতিচিহ্ন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের মাত্র পাঁচ বছর আগে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চবির ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ২২০ জন। 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে বেশকিছু স্মৃতিচিহ্ন। আজ রইল সেগুলোরই আদ্যোপান্ত। 

Advertisement

স্মরণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর সন্তানদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’। স্মৃতিস্তম্ভটিতে সাতজন শহিদের নাম ও ছবি রয়েছে। যাদের স্মরণে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে চবি থেকে একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বীরপ্রতীক শহিদ মো. হোসেন, প্রকৌশল দফতরের প্রভাত কুমার বড়ুয়া, চাকসু জিএস ইতিহাস বিভাগের ছাত্র শহিদ আবদুর রব, একই বিভাগের ছাত্র ফরহাদ-উদ-দৌলা, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, অর্থনীতির নাজিম উদ্দিন খান এবং প্রহরী সৈয়দ আহমদ। ২০০৯ সালে স্থাপিত হয় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ ‘স্মরণ’। এর স্থপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবীর। বীর সন্তানদের স্মৃতি ধরে রাখতেই ঐ জায়গার অফিসিয়াল নাম ‘স্মরণ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য

স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে নির্মাণ করা হয় ‘স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য’। খ্যাতিমান শিল্পী মুর্তজা বশির একক প্রচেষ্টায় এ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। চারটি আবাবিল পাখির প্রতীকী নির্মাণে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালির ছয় দফা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমধারা। পাখির ডানায় একুশটি পাথরের টুকরোয় লিপিবদ্ধ আছে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনের কাহিনী। ভাস্কর্যটির মূলভিত্তি রচিত হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলার ওপর। এর কাজ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। ১৯৮৫ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। শিল্পী মুর্তজা বশির তখন চবির চারুকলা বিভাগে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় এ স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায়ে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে হানাদার বাহিনী। দেশকে মেধাশূন্য করতে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে রাজাকার-আলবদররা। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় এ স্মৃতিস্তম্ভ। শিল্পী রশিদ চৌধুরী এর নকশা প্রণয়ন করেন। বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮৫ সালে। কেরন গাছের পরিবেষ্টনে চত্বরটি বর্তমানে বিভিন্ন উৎসবের মিলনকেন্দ্র।

জয় বাংলা ভাস্কর্য

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও জাতীয় কোনো স্মারক ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর ভাস্কর্যটির শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লাইভ কাস্টিং মেথডে তৈরি করা হয়েছে এ ভাস্কর্যটি। যা বাংলাদেশে প্রথম। ধূসর রঙের আস্তরণে মার্বেল ডাস্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রোদ বৃষ্টিতেও ভাস্কর্য মলিন হবে না। এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের প্রত্যক্ষ ও সমান অংশগ্রহণ বুঝানো হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে পাহাড়িদের ভূমিকাও উপজাতি এক নারীর অবয়বে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূল বেদীসহ নির্মিতব্য ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২০ ফুট, প্রস্থ ১৮ ফুট। এর মধ্যে উপরের স্তরে তিন মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট এবং নিচের স্তরে প্রতিটি মানব অবয়বের উচ্চতা সাড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পশ্চিমে নির্মিত হয়েছে। 

 

এই প্রতিবেদনের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!