ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসেই আসবে স্বস্তির নিঃশ্বাস

ইমন ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১৯:০৮, ১১ মার্চ ২০২৩
পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসেই আসবে স্বস্তির নিঃশ্বাস
চাঁদা তুলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করে ৪৮ ব্যাচ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে প্রতিটি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেতে উদগ্রীব থাকেন। তাদের মনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নগুলো দানা বাঁধতে শুরু করে। সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং স্বাধীনভাবে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরার স্বপ্ন নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের যাত্রা শুরু হয় তাদের। 

ব্যাচ ডে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা ব্যাচ ডে বা বর্ষপূর্তির আয়োজন করেন। ব্যাচের নাম লেখা টিশার্ট পড়ে, গায়ে রঙ মেখে, স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন ক্যাম্পাস আঙিনা। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এমনি একটি ব্যাচের আগমন ঘটেছিল ২০১৯ সালের আজকের এই দিনে (১১ মার্চ)। ক্যাম্পাসে যারা পরিচিত ছিল ৪৮ ব্যাচ হিসেবে। দিনটি আসলে তাদের উচ্ছ্বাসের যেন কমতি থাকে না। এ সময়টা তারা ফেলে আসা দিনগুলোকেই স্মরণ করতে থাকে। 

Advertisement

‘অজস্র স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত প্রাণ, হৃদয়ে ৪৮ আমরা জাবিয়ান’ স্লোগানকে ধারণ করে ব্যাচটি আজ চতুর্থ বর্ষপূর্তি পালন করেছে। তবে এবারের বর্ষপূর্তিতে ছিল না কোনো উৎসবের আমেজ। তারা এবার একটু ভিন্নভাবেই দিনটি পালন করেছে। চাঁদা তুলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করেছেন। রং-বেরঙের ডাস্টবিনগুলো যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের বাহক হিসেবে মাথা উঁচিয়ে দাড়িয়ে আছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো একটি আদর্শ স্থান। যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের উত্তমরূপে গড়ে তোলে। শিক্ষা প্রতিটি মানুষের জীবনের পাথেয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, তবে সেটা হয় সবার কাছেই দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুন্দর-পরিষ্কার রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ১০টি ডাস্টবিন বসিয়েছেন। 

ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে ময়লা-আবর্জনার পরিমাণ। ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গা ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা না থাকায় যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ জমে ছোটখাট একটা আবর্জনার টিলা তৈরি হচ্ছে। যা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। পড়াশোনার পরিবেশের পাশাপাশি নষ্ট করছে পরিবেশের ভারসাম্য। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগজীবাণু বহনকারী বিভিন্ন কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও এ বর্জ্যে দূষণ থেকে পেটের পীড়া, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্ট, আলসার, গ্যাস্ট্রিক এমনকি লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো কঠিন রোগের সৃষ্টি হতে পারে। 

৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা প্রয়োজন। আমরা যদি নিজ উদ্যোগে আমাদের আশপাশের জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি তাহলে পুরো ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। কোনো কাজই ছোট নয়। আর কোনো কাজকেই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ব্যাচগুলো যদি এরকম উদ্যোগ নেন, তাহলে আমাদের জাহাঙ্গীরনগর সৌন্দর্যমণ্ডিত ও নান্দনিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠবে। 

ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ সম্পর্কে ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাকিল ইসলাম বলেন, চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ক্যাম্পাসের জন্য ইতিবাচক কিছু করার কথা ভাবছিলাম। তখনই এমন চিন্তা মাথায় আসে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো উৎসব হচ্ছে, সেই উপলক্ষে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। তাদের ফেলে যাওয়া ময়লা আবর্জনা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় তাই ব্যাচের বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্যাম্পাসে ডাস্টবিন প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিই। শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সবার সার্বিক সচেতনতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধই এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় নিয়ামক বলে আমি মনে করি।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি শিল্পী এনে ক্যাম্পাস-মুক্তমঞ্চ মাতিয়ে রাখি, প্রতিযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা খরচ করি, অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করি, কিন্তু অনুষ্ঠান পরবর্তী ক্যাম্পাসের বিষয়টি একদম ভুলে যাই। মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া, টিএসসি চত্বর এখন ক্লান্ত। এরিয়াটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এগিয়ে এসেছে ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আমি তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তোমাদের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়, অনুকরণীয়। আসুন, ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মতো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!