ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

নবীনদের কোলাহলে মুখর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৩, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
নবীনদের কোলাহলে মুখর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
আজ তাদের নবীনবরণ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিঘেরা অঞ্চল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। কবির স্মৃতিরক্ষায় ২০০৬ সালে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আগমন ঘটতে থাকে শত শত নতুন মুখ। তারা সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী। আজ তাদের নবীনবরণ। 

এদিন সকালে ঝাঁক বেঁধে সবাই আসতে থাকলেও মূলত গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে নবীনদের কলকাকলিতে। দূর দূরান্ত থেকে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীরা একদিন আগেই পৌঁছে গেছে তাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। 

নতুন ব্যাচটি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ষোড়শ ব্যাচ। এই নবীন শিক্ষার্থীদের অনেকের সঙ্গে এসেছে তার অভিভাবক। নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে প্রাণের মাত্রা যোগ হয়েছে ক্যাম্পাসটিতে। নবীনদের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে প্রতিটি আড্ডায়, প্রতিটি চত্বরে। 

Advertisement

নতুন ব্যাচটি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ষোড়শ ব্যাচ।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে তাদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠান। এ সময় নবীনদের হাতে রজনীগন্ধা তুলে দিয়ে তাদের বরণ করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অরিয়েন্টেশনে দিকনির্দেশনামূলক ও অভিভাবকসুলভ বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর ও শহিদ বুদ্ধিজীবী কন্যা অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী। পাশাপাশি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দও। এদিন সকালে নবীনদের বরণ করে নিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো নানা পদক্ষেপ নেয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে নবীনদের স্বাগত জানায়। এছাড়াও অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে নবীনদের এ আনন্দঘন মূহুর্তের আলাদা মাত্রা যোগ করে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের আশেপাশে নবীনদের ছবি তোলা, ভিডিও করা যেন থামছিল না। সেই সকাল থেকে শুরু, চলছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কখনো ছবি তোলা, কখনো ঘাসের ওপর বসে লম্বা আড্ডা অথবা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বরে ঘোরাঘুরি। দিনভর মাতোয়ারা ছিল নবীনরা। 

রংপুর থেকে আসা সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। ভর্তি হওয়ার সময় এতটা ভালো অনুভব করিনি। আজ বন্ধুবান্ধব সবাইকে চিনেছি। স্যারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অরিয়েন্টেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনলাম। আমি ভীষণ আনন্দিত। আশা করছি, এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনেক কিছু শেখাবে।’ 

দিনভর মাতোয়ারা ছিল নবীনরা। 

আরেক নবীন শিক্ষার্থী তাশরিফ হাসান বলেন, ‘আমি আমার পছন্দের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হতে পেরে অনেক আনন্দিত। আজকে অনেক বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়র ভাইয়া আপুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবাই অত্যন্ত আন্তরিক ও সুহৃদ। সবার সঙ্গে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা উপভোগ করতে চাই।’ 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সবসময় নবীনদের সঙ্গে আছে উল্লেখ করে সহকারী প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটন বলেন, ‘নবীনদের সঙ্গে সিনিয়ররা অনেকসময় নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এসব প্রতিরোধে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরদারির আওতায় আছে। যেখানেই কোনো নবীন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটবে, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!