ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

সৈকতের আবর্জনা কুড়ালেন সিকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

সৈয়দ জাহিদ হাসান, সিকৃবি
প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৩
সৈকতের আবর্জনা কুড়ালেন সিকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
প্রবালদ্বীপে প্লাস্টিক ও আবর্জনা পরিষ্কার করেন সিকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম স্থান ‘সেন্টমার্টিন’। চারদিকে নীল জল আর প্রবালে মোড়ানো সৈকতের সমন্বয়ে অনন্য এক স্থান সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ। দ্বীপটির সৌন্দর্য দর্শনে সারাদেশ থেকে লাখো পর্যটক ভিড় জমায় সেখানে। সম্প্রতি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ মোট ৫৫ জনের একটি দল ভ্রমণ করছে দেশের একমাত্র এই প্রবালদ্বীপে। দ্বীপটিতে অবস্থানকালে তারা সৈকতে পড়ে থাকা প্রায় ২০ কেজির অধিক প্লাস্টিক ও আবর্জনা পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

দ্বীপটির পূর্বে প্রবাল বেষ্টিত সৈকতে পড়ে থাকা প্লাস্টিক ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, কফির মগ, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করেন তারা। এছাড়াও দ্বীপটিতে অবস্থান করা পর্যটকদেরকে ময়লা আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি সচেতনতা অভিযান চালায় তারা।

আবর্জনা সংগ্রহকারী দলটির নেতৃত্ব দেওয়া সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরে শিক্ষক পার্থ প্রতীম বর্মণ বলেন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সকারশন ট্যুরের অংশ হিসেবে এখন আমরা সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছি। সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ  ভ্রমণকালে সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকা আবর্জনা দেখে আমাদের বেশ খারাপ লাগে। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছেঁড়াদ্বীপের পূর্ব দিকের সৈকত থেকে প্রায় ২০ কেজির অধিক প্লাস্টিক ও আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করি। পাশাপাশি এ ব্যাপারে পর্যটকদের সচেতন করার কাজ করেছি আমরা।

সৈকতে পড়ে থাকা প্লাস্টিক ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, কফির মগ, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন অপচনশীল আবর্জনা সংগ্রহ করেন তারা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি বলেন, আমরা সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলে যাই, যার প্রভাব পড়ে জীববৈচিত্র্যে ও পরিবেশে। আশা করি এখানে আগত সবাই অন্তত এই বিষয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করবে। প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ভ্রমণের উদ্দেশে আসেন, আমার প্রত্যাশা তাদের মাধ্যমে এই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ুক সবার মধ্যে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী উম্মে হাসনাইন সেমন্তি মুন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা সেন্টমার্টিন দ্বীপটি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। কিন্তু পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপচনশীল আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলার কারণে দ্বীপটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য  দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের অংশ হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে।

পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেঁড়াদ্বীপে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় তারা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শিক্ষার্থী এজাজ ইবনে সিনা বলেন, মাৎস্যবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার কারণে সমুদ্রে প্লাস্টিকের দূষণের ভয়াবহতা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব নিয়ে বেশ ভালো ধারণা আছে। সেন্টমার্টিনে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। তাই কোনো ধরনের পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেঁড়াদ্বীপে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাই। অল্প সময়ের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা একটি অসম্ভব সুন্দর প্রশান্তি দিয়েছে আমাদের।

জানা যায়, প্রতি বছর অন্তত তিন লাখ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যায়। যে সংখ্যাটি বিগত দুই দশক আগেও দুশোর নিচে ছিল। পরিবেশবাদীদের মতে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ২০৪৫ সালের মধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে যেতে পারে। তবে, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!