ঢাকা,  বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

পে-স্কেলের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
পে-স্কেলের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার
বাংলাদেশ ব্যাংক ।ফাইল ছবি

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিলামের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে মাসটিতে মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এর আগে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এ কারণে স্বল্পমেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম আয়োজন করা হয়েছে।

সাধারণত সরকার ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। তবে রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়।

অবশ্য নিলামে বিক্রি হওয়া ট্রেজারি বিল ও বন্ডের পুরো অর্থ সরকারের নতুন বা নিট ঋণ নয়। এর একটি বড় অংশ আগের ঋণের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।

বাড়ছে সরকারি ঋণের সুদহার

সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ রেকর্ড ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত আগস্ট শেষে এ পরিস্থিতি দেখা যায়। বিপুল তারল্য থাকার পরও সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়ায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহের ব্যবস্থা করছে।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে। সুকুকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়লে প্রচলিত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।

রাজস্ব ঘাটতিতে বাড়ছে ব্যাংকনির্ভরতা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। প্রত্যাশার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতেও ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আগামী দিনগুলোতে সরকারি ব্যয় নির্বাহ ও অর্থায়নের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!