বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ধীরগতি
বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬২ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই।
প্যাকেজ ঘোষণার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তারা পেয়েছেন মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩ শতাংশেরও কম। ফলে বন্ধ কারখানা চালু ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল লক্ষ্য অর্জিত হওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ, বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থই এখনও উদ্যোক্তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
সামগ্রিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় থাকা ১৫টি তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার ঋণ ছাড়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বরাদ্দের এক-পঞ্চমাংশের কম অর্থ ছাড় সম্ভব হয়েছে। এই প্যাকেজের অধীনে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি সুদ বহন করছে সরকার। এই উদ্যাগ থেকে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল।
তহবিলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে। এছাড়া কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তহবিলে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে ৯০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি, কৃষি ও গ্রামীণ খাতে ২৯৩ কোটি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
ঋণ বিতরণের এমন ধীরগতির পেছনে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক মালিকরা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ঋণের আকুল আবেদন থাকা সত্ত্বেও কঠোর জামানত শর্ত এবং পুরনো ঋণখেলাপির অজুহাতে ব্যাংকগুলো টাকা দিতে গড়িমসি করছে। তার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতি অনুযায়ী, সহায়তা পেতে হলে সরকার ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা মামলা আগে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা তোলার পর ঋণ মিলবে কি না—সেই অনিশ্চয়তায় অনেকেই এগোচ্ছেন না।
অন্যদিকে ব্যাংকারদের দাবি, বর্তমান সময়ে খেলাপি ঋণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় নতুন করে অর্থায়নের আগে কারখানার সচল হওয়ার সম্ভাবনা ও জামানত যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ফলে আবেদন অনুমোদনে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা মামলার শর্ত শিথিলকরণসহ ঋণের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন।