বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ডলারের বাজারে অস্থিরতার ৬টি কারণ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হোসেন আরা শিখা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডলারের বাজারে অস্থিরতার পেছনে যেসব কারণ মূখ্য ভূমিকা রেখেছে, তা হলো-
- বছরের শেষ মাস: ডিসেম্বর মাসে ঋণ পরিশোধের সময় হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) চাহিদা বেড়েছে।
- আইএমএফ টার্গেট: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর টার্গেট পূরণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে, যা আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হয়নি।
- রেটিং অবনমন: বাংলাদেশের রেটিং অবনমনের কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ইউপাস এলসি খোলা, পেমেন্ট ম্যাচুরিটি ডেফার করা এবং অফশোর ব্যাংকিং ঋণের আন্তঃপ্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
- বৈদেশিক দেনা পরিশোধ: ডিসেম্বর মাসে বৈদেশিক দেনা পরিশোধ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ফলে বাজারে চাপ বেড়েছে।
- রেমিট্যান্স আহরণে সমস্যা: রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে একচেটিয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা বাজারে ডলারের বিনিময় হারকে অস্থিতিশীল করেছে।
- ব্যাংকগুলোর ইনফ্লো-আউটফ্লো মিসম্যাচ: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলারের ইনফ্লো ও আউটফ্লো মেলেনি, যার কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ
ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:
- রেমিট্যান্স আহরণের জন্য সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা প্রতি ডলার বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রস কারেন্সি হলে তা ক্রস ক্যালকুলেশন করে ১২৩ টাকার বেশি হবে না।
- ড্যাশবোর্ড ও ডাটা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ডলার বাজারে অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।