এদিকে, বাড়তি দামের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে— প্রত্যেক বছরই মৌসুমের প্রথম ১০-১২ দিনে সীমিত পরিমাণ আগাম আলু বাড়তি দামে বিক্রি হয়। মূলত সরবরাহ কম থাকায় এই আগাম আলু মৌসুমের শুরুতে কিছু সৌখিন ভোক্তা কিনে থাকেন। এর সঙ্গে সাধারণ আলুর দামের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।
তারা আরো বলছেন, এই সীমিত সরবরাহের আগাম নতুন আলুর দামের সঙ্গে বাজারে সহজলভ্য আলুর দাম প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।
.png)
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোতে এই আগাম নতুন আলু বাজারে আসার প্রথম সপ্তাহে ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। মৌসুম এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই এই নতুন আলুর সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং দামও সাধারণ পর্যায়ে নেমে আসে।
এ বছর অবশ্য অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আগাম নতুন আলু ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারও এলাকায় নতুন আলু ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে গেছে। বাড়তি দাম নিয়ে ফেসবুকে অনেকে যেমন সমালোচনা করছেন, অনেকে আবার কম দামে কিনছেন বলেও পোস্ট দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, শিবগঞ্জের উথলী, নন্দীগ্রাম, আদমদিঘিসহ অন্যান্য নবান্নের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে নতুন পাকড়ি লাল আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি। আকারভেদে এসব আলু ছোট এবং মাঝারি সাইজের। আমদানি কম হলেও চাহিদা রয়েছে।
জানা যায়, সনাতনী পঞ্জিকানুসারে পহেলা অগ্রহায়ণ নবান্ন অনুষ্ঠিত হয়। আবহমানকাল থেকে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পহেলা অগ্রহায়ণ দিনটি নবান্ন উৎসব হিসেবে পালন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এই নবান্ন উৎসবে নতুন শাকসবজি ফলমূল প্রয়োজন হয়। এ উপলক্ষে পরিবারে আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন করা হয়। খাদ্য তালিকায় মাছসহ নতুন আলু থাকে। এ কারণেই বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে বাজারে নতুন আলু নিয়ে আসেন। দাম বেশি হলেও চাহিদা অনুযায়ী কমবেশি সবাই কিনছেন।
ফতেহ আলী বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে নতুন আলু উঠেছে, আকারে বড় না হলেও নবান্ন উৎসবের কারণে দাম ভালো পাওয়ার জন্য কৃষকরা বিক্রি করছেন। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারে নতুন আলু কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ চন্দ্র জানান, প্রতি বছর আমাদের পরিবারে নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারো এই উৎসব পালনে বাজারে নতুন আলু কিনতে এসেছি। এই উৎসবে নতুন ধানের চাল, নতুন আলু প্রয়োজন হয়। দাম বেশি হওয়ায় ১০০ গ্রাম কিনেছি ৪০ টাকায়। তাই বাজারে আলুর দাম ৪০০ টাকা কেজি হলে উৎসবের কারণে কিনতে হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জের আকনপাড়া গ্রামের কৃষক মোসলম উদি্দন বলেন, জমিতে লাগানো আলু এখনো পরিপক্ব হয়নি। কিন্তু সনাতনীদের নবান্ন উৎসবের কারণে জমির এক কাপ ভেঙে ৫ কেজি আলু বাজারে এনেছিলাম। চাহিদা বেশি থাকায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করেছি। সবাই ৫০ থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত আলু কিনেছেন। দোকান কম থাকায় বিক্রি ভালো হয়েছে।
তবে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিকেজি সাধারণ আলু ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।