সম্প্রতি জুলাই মাসের পিএমআই প্রকাশ করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ। প্রকাশিত পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা এই চার খাতের গতি কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পিএমআই মান জুন মাসের তুলনায় জুলাইতে ২৭ শতাংশ কমে ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। জুন মাসে এ সূচকের মান ছিল ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। মে মাসে ছিল ৭০ দশমিক ১ শতাংশ। আর এপ্রিলে ছিল ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।
.png)
জুলাই মাসে কৃষি খাতের বড় সংকোচন হয়েছে। ঐ মাসে সূচকের মান কমেছে প্রায় অর্ধেক। জুন মাসে কৃষি খাতের পিএমআই সূচকের মান ছিল ৭০ দশমিক ২, জুলাই মাসে তা ৩৫ দশমিক ৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। জুলাইয়ের আগে টানা ৬ মাস কৃষি খাতের সম্প্রসারণ হয়েছে।
উৎপাদন খাতে পিএমআই সূচকের মান ৩৪ দশমিক ১, জুন মাসে যা ছিল ৬১ দশমিক ৭ পয়েন্ট। জুলাইয়ের আগে এ খাতে টানা সাত মাস সম্প্রসারণ হয়েছে।
একইভাবে নির্মাণ ও সেবা খাতেরও সংকোচন হয়েছে। জুন মাসে নির্মাণ খাতের সূচকের মান ছিল ৬৫ দশমিক ১। জুলাই মাসে এ সূচকের মান ছিল ৪৫। অর্থাৎ ১ মাসে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জুলাইয়ের আগে টানা সাত মাস এ খাতের সম্প্রসারণ হয়েছে।
সেবা খাতের পয়েন্ট কমেছে ২৬ দশমিক ৫। জুন মাসে এ সূচকের মান ছিল ৬৩ দশমিক ৫। জুলাই মাসে যা নেমে আসে ৩৭-এ। জুলাই মাসের আগে এ খাতেরও টানা সাত মাস সম্প্রসারণ হয়েছে।
পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাবেক সরকারের চরম মাত্রার পদক্ষেপের প্রভাবে অর্থনীতির সব সূচকে বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে।
পিএমআই সূচকটি শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের পিএমআই মধ্যে পরিমাপ করা হয়। স্কোর বা মান ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং স্কোর ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝাবে। আর স্কোর ৫০ থাকলে বুঝতে হবে সংশ্লিষ্ট খাতে ঐ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে পিএমআই সূচক প্রকাশ করা হয়। এ সূচক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল ক্রয়, পণ্যের ক্রয়াদেশ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য নেয়া হয়।