এদিকে ডলারের মজুত ধরে রাখতে প্রায় বছরজুড়ে আমদানিতে কড়াকড়ি ছিল। এতে আমদানি কমেছে ঠিকই, কিন্তু ডলারের মজুত আর বাড়েনি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানির সঙ্গে দেশের শিল্পোৎপাদন, শুল্ক আয়সহ অর্থনীতির অনেক বিষয় জড়িত। সরকার ডলারের মজুত বাড়াতে আমদানি টেনে ধরলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
.png)
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ—এই ৯ মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরে শিল্পোৎপাদনের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর আগের দুই অর্থবছরে শিল্পোৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ ও ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এছাড়া আমদানিতে কড়াকড়ির কারণে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। এসব পণ্য সরাসরি বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছে সাড়ে ২২ শতাংশ। খাদ্যশস্য আমদানি কমেছে ৩৪ শতাংশ। ভোগ্যপণ্য আমদানি কমেছে সাড়ে ১৮ শতাংশ।
রফতানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এসব পণ্যের আমদানি কমা মানে অন্য অনেক পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়া। এতে বাজারে পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যায়, উসকে দেয় মূল্যস্ফীতি।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি কড়াকড়ি করায় যখন পুরো উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে, তখন অর্থ মন্ত্রণালয় আসছে বাজেটে আমদানি আরো কমানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে। বলা হচ্ছে, নতুন অর্থবছরে আমদানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানো হলো। এতে শিল্প-ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমেনি। এখন যদি আমদানিতে আরো কড়াকড়ি করা হয়, তবে শিল্পোৎপাদন কমবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
তিনি বলেন, ডলারের জন্য কড়াকড়ি অথচ তাতে ডলার বাড়েনি, সংকট বেড়েছে। কেউ কেউ ডলারে এলসি কমিয়ে অন্যভাবে ঠিকই ডলার পাঠাচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কাগজে বন্ধ থাকলেও আসলে কোনো কিছুই বন্ধ নেই।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে রিজার্ভকে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ওঠানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমদানি কড়াকড়ি করা হচ্ছে। কারণ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাশিয়ার ঋণসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের বিদেশি ঋণের বড় বড় কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। ঐ চাপ সামাল দিতেই আগেভাগে ডলারের মজুত বাড়ানোর কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়।