প্রথমদিনেই খোলাবাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও বন্ধ আবার কোথাও ১২৫ থেকে ১২৭ টাকায় সীমিত পরিসরে ডলারের লেনদেন হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান ও বনানী এলাকার খোলাবাজারে ডলার ব্যবসায়ী ও মানি এক্সচেঞ্জে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
.png)
ক্রলিং পেগ হচ্ছে, দেশীয় মুদ্রার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয়ের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটি মুদ্রার বিনিময় হারকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার থেকে ডলার উধাও হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতি সাময়িক হলেও দীর্ঘমেয়াদে তেমন কোনো আশার বাণী নেই। কারণ নতুন পদ্ধতি ক্রলিং পেগ ডলারের জোগান বাড়াতে কতটা কার্যকর তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া এ পদ্ধতির তেমন কোনো সাফল্যের উদাহরণও নেই। বাংলাদেশের অস্থির ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতিকে অনেকটা ‘থেরাপি পদ্ধতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ডলারের দর পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে সাময়িক সময়ের জন্য বাজার চড়া হলেও এরপর আর বাড়বে না। ফলে ক্রমাগত দর বৃদ্ধির যে প্রবণতা তা বন্ধ হবে। ফলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকার অবমূল্যায়ন হলেও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে ক্রলিং পেগের নামে নতুন যে পদ্ধতি চালু হলো, সেটা আসলেই ক্রলিং পেগ কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।
মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব মো. হেলাল উদ্দিন সিকদার বলেন, ডলার ১২১-১২২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজার অনেকটা স্থির ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হঠাৎ একলাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন ডলারের দর খুব বেশি বেড়ে না যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দাম এক দিনেই রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক ডলার রেট ১১৭ টাকা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দর। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ১১৮ টাকা বিক্রি করতে পারবে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় মানি চেঞ্জারগুলো ডলার বিক্রি করছে না। আবার যাদের কাছে খুচরা ডলার আছে তারাও বিক্রি না করে রেখে দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক ডলার রেট বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খোলাবাজারে কত বাড়ে তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সবাই। এমন পরিস্থিতির কারণে খোলাবাজারে ডলারের বিক্রি শূন্য হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, নগদ ডলারের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কেউ যদি বিক্রি না করে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। মানি এক্সচেঞ্জে না পেলে ব্যাংকে পাওয়া যাবে। বর্তমানে ব্যাংকে পাঁচ কোটি ক্যাশ ডলার মজুদ আছে।
তবে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা ব্যাংকে গিয়েও চাহিদামতো ডলার পাননি। অনেক নিয়মকানুনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয়।