ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব শুরু

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব শুরু
নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসব শুরু। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ি এলাকার বারোমারী সাধু লিও’র খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল থেকে দুই দিনব্যাপী ‘ফাতেমা রাণীর’ তীর্থোৎসব শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে বরোটার সময় মহাখ্রিস্টযাগের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে এই তীর্থোৎসব।

এই তীর্থোৎসবকে ঘিরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শেরপুর সীমান্তের বারোমারি খ্রিস্টধর্মপল্লী এবং আশপাশ গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। তীর্থোৎসবের একদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্টভক্তরা আসতে শুরু করেন। প্রশাসন থেকেও প্রায় অর্ধলক্ষ তীর্থযাত্রীর এই উৎসবকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সুত্র জানায়, প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক ‘ফাতেমা রাণীর’ তীর্থোৎসব। শুধু শেরপুর জেলার খ্রিস্টভক্তরা নয়, দেশ-বিদেশের হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এতে অংশ নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় পবিত্র খ্রিস্টযাগ বা প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় আলোর শোভাযাত্রা, মহাখ্রিস্টযাগ, পাপস্বীকার, নিশি জাগরণ এবং শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। এবার অনুষ্ঠানে প্রধান পুরোহিত হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি।

এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগতদের জন্য রয়েছে থাকা ও খাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা। তীর্থোৎসবের পাশের মাঠে বসেছে খ্রিস্টধর্মীয় ভিন্ন পণ্য সামগ্রীর দোকান, গারো সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যবহারের ঐতিহ্যবাহী নানান পোশাক, চুরি-মালা, বাসা-বাড়ির আসবাবপত্র, শো-পিস, শিশুদের নানান খেলনাসহ বিভিন্ন বাহারি পণ্যের মেলা। এই মেলায় খ্রিস্টভক্ত গারো সম্প্রদায় ছাড়াও বাঙ্গালী মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভীড় করেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের তীর্থযাত্রী বিপন সংমা বলেন, এই তীর্থস্থানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। ফাতেমা রাণী মা মারিয়ার চরণে ভক্তি শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। তিনি নিশ্চয় আমাদের সহায় হবেন।

তীর্থযাত্রার আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী খ্রিস্টান মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, “অন্যান্য বছরের মত এ বারের আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতিও খুবই ভালো থাকায় আমরা আশা করছি ভাবগাম্ভীর্য এবং শান্ত প্রিয়ভাবে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারব। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিষ্টভক্তরা মিশনের মাঠে চলে এসেছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের এই উৎসব পরিদর্শন করেছেন।”

এদিকে, তীর্থ উৎসবে পুলিশসহ জেলার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো তীর্থপল্লী থাকবে গোয়েন্দা নজরদারীতে। একই সাথে থাকছে সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা।

এই উৎসবকে ঘিরে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “এবার উৎসবকে ঘিরে পোশাকি এবং সাদা পোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। আশা করি খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবের মুখেই অনুষ্ঠান শেষ করতে পারবেন।”

প্রসঙ্গত, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বারমারী সাধু লিও’র এই খ্রিস্টধর্মপল্লীটি ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের বুকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে ও অনুকরনে তৈরি এই ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তীর্থযাস্থান। এখানে স্থাপন করা হয়েছে ৪৮ ফুট উচু মা-মারিয়ার বিশাল একটি মুর্তি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/নালিতাবাড়ী/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!