ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়ায় পরীক্ষামূলক ব্ল‍্যাক রাইস ধান চাষ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
আখাউড়ায় পরীক্ষামূলক ব্ল‍্যাক রাইস ধান চাষ
দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ ফসলের মাঠে বাতাশে দুলছে ব্ল‍্যাক রাইস ধান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবুজ ধানক্ষেতের মাঝে কালচে রঙের শীষ। দূর থেকে দেখলে সহজেই চোখে পড়ে ব্যতিক্রমী এ দৃশ্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের চাষ করেছেন কৃষক সায়মন মোল্লা। দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা এ ধানের শীষ ইতিমধ্যে বের হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো থাকায় ফলন ও বাজারমূল্য নিয়ে আশাবাদী তিনি।

প্রচলিত ধানের পাশাপাশি নতুন জাতের এ ধান চাষ করে সম্ভাবনার নতুন পথ খুঁজছেন সায়মন। পরীক্ষামূলক আবাদে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে কালো ধানের চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ব্যতিক্রমী এ ধানের চাষ দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বীরচন্দ্রপুর গ্রামে আসছেন। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এ ধান চাষ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষামূলক আবাদ সফল হলে এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষক সায়মন মোল্লা বলেন, ছোটবেলা থেকেই ধান চাষের প্রতি তার আগ্রহ। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান আবাদ করছেন তিনি। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর এ ধান চাষের আগ্রহ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এ মৌসুমে বীজ সংগ্রহ করেন। প্রতি কেজি বীজ ৫০০ টাকা দরে কিনেছেন। পরে বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করেন। এখন জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে। কোনো কোনো শীষ বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

সায়মন মোল্লা আরও বলেন, ব্ল্যাক রাইসের বীজের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে। পুষ্টিগুণের কারণে কালো চালেরও আলাদা চাহিদা আছে বলে তিনি মনে করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘা জমিতে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদনের আশা করছেন। পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এ ধানের আবাদ করবেন।

স্থানীয় কৃষক বাছির মিয়া বলেন, এলাকায় প্রচলিত ধানের বাইরে এ ধরনের ব্যতিক্রমী ধানের চাষ আগে দেখেননি। এবারই প্রথম কালো ধানের আবাদ দেখেছেন। এ ধান চাষের প্রতি তারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কালো চালের বৈশিষ্ট্য

ব্ল্যাক রাইস বিশেষ এক ধরনের ধান, যার চালের বাইরের স্তর গাঢ় বেগুনি থেকে কালো রঙের হয়ে থাকে। এতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া এতে খাদ্য-আঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। কালো চাল দিয়ে ভাত, পায়েস, খিচুড়ি ও পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করা হয়। পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছেও এ চালের চাহিদা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণের আগে স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা, মানসম্মত বীজ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং বাজারের চাহিদা যাচাই করা জরুরি। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়া গেলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে এ আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি বিশেষ জাতের ধান। উপজেলায় মৌসুমি ধান চাষের পাশাপাশি সীমিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভালো করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। চাষাবাদে সফলতা এলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এর ফলন ও বাজারমূল্য যাচাই করে পরবর্তী সময়ে আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!