পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি-জমি, স্থায়ী বাঁধের দাবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমার সাথে সাথে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। নদীগর্ভে ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া দুর্লভপুর ইউনিয়নের শত শত মানুষ ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী পদ্মা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে এই দাবি জানান।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর ফিল্ড বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র রোদের মধ্যেও এলাকার শত শত নারী, পুরুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজসেবকেরা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জানান, গত দেড় মাস ধরে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোর হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি দশায় জীবনযাপন করেছে। সম্প্রতি পদ্মার পানি কমতে শুরু করার পরপরই বিভিন্ন গ্রামে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের মানুষেরা।
কয়েকদিনের ব্যবধানে ফসলি জমি, বসতভিটা এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পদ্মার করাল গ্রাসে শত শত মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদীভাঙনের শিকার নিঃস্ব পরিবারগুলোকে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসন করার জোর দাবিও জানান বক্তারা।