ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের

সিরাজদিখানে ‘পান কবিরাজের’ বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪০, ৭ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজদিখানে ‘পান কবিরাজের’ বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের ‘শাহজালাল পান কবিরাজ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার সমাধানের কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো সমাধান পাননি তারা।

অভিযোগ রয়েছে, শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে সংসারে অশান্তি, স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, বন্ধ্যাত্ব, পছন্দের মানুষকে কাছে পাওয়া এবং অবাধ্য সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে আনার মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে আসছেন। রোগীদের তিনি বোঝাতেন, তার কাছে থাকা ‘জ্বিন’ এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিদিন নিজ বাড়িতে আসন বসিয়ে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা লোকজনকে তিনি কখনো বলতেন, শত্রুতার কারণে তাদের বাড়িতে তাবিজ বা পুতুল পুঁতে রাখা হয়েছে। পরে কথিত জ্বিনের সাহায্যে সেসব তাবিজ বা পুতুল তুলে এনে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন। এ জন্য বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মালামাল নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি ‘বন্ধ’ করা, তাবিজ দেওয়া এবং জনপ্রতি ১২০ টাকা করে নজরানা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের দাবি, জ্বিনের মাধ্যমে তাবিজ-কবজ বা পুঁতে রাখা পুতুল তুলে আনার বিষয়টি প্রতারণার একটি কৌশল। এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় একাধিক অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কোরআন অবমাননার অভিযোগে এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুসল্লিরা শাহজালালের আস্তানা ভেঙে দেন এবং তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন। পরে তিনি আবারও সেখানে কার্যক্রম শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পরে কোনো সমাধান না পাওয়ায় অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে টাকা দেওয়ায় বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলেও দাবি করেন।

শ্রীনগর উপজেলার সিমপাড়া গ্রামের দুলাল বেপারীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের মাথায় সমস্যা ছিল। এ কারণে ওই কবিরাজের কাছে যাই। তিনি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আমার কোনো কাজ হয়নি। পরে টাকা ফেরত বা বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমি শাহজালাল পান কবিরাজের বিচার চাই।’

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার এক নারীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ওই নারী পরে ক্ষুব্ধ হয়ে কবিরাজের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের সোহেল নামে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিভিন্নভাবে ধর্মীয় বিষয় ব্যবহার করে মানুষকে প্রভাবিত করতেন। তাদের অভিযোগ, কোরআনের আয়াত নিয়ে অবমাননাকর কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, শাহজালালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘শাহজালাল পান কবিরাজের’ বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজদিখান/এমকে
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!