ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বেনাপোল চেকপোস্টে চুরি, পণ্য উদ্ধার হলেও অধরা চোর

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৪, ৬ অক্টোবর ২০২৬
বেনাপোল চেকপোস্টে চুরি, পণ্য উদ্ধার হলেও অধরা চোর
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস-ইমিগ্রেশন এলাকায় চুরির ঘটনায় পণ্য উদ্ধার হলেও জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিরাপত্তাবেষ্টিত যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস-ইমিগ্রেশন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে চুরি হওয়া পণ্য উদ্ধার করা হলেও ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক এ চেকপোস্টে কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এমন নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে একজন চোর সীমানাপ্রাচীর পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর চেকপোস্টের নিরাপত্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চুরির ঘটনায় কাস্টমস বা আনসার সদস্যদের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগেও বেনাপোল কাস্টমস থেকে স্বর্ণ ও পণ্য চুরির ঘটনায় কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ওইসব ঘটনায় এআরও ইন্দ্রজিৎ কারাগারে যান এবং শামীমা সুলতানা নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় আটক হন বলে সূত্রটি জানায়।

এ ছাড়া পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণে রেখে দেওয়া পণ্য রাতের আঁধারে বের করে নেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহীদের কেউ কেউ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোমবারের ঘটনার বিষয়ে একটি সূত্রের দাবি, দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে একজন ব্যক্তিকে দিয়ে পণ্য বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যের নজরে এলে তিনি পণ্য আটকে দেন। তবে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রটি আরও দাবি করে, সম্প্রতি বেনাপোল চেকপোস্টে যোগ দেওয়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমানও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চুরির ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চেকপোস্টের এক রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, ‘চুরির বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। আপনারা কাস্টমস হাউসে গিয়ে কমিশনার সাহেবের সঙ্গে আলাপ করেন।’

এদিকে কয়েকজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, লাগেজ তল্লাশির সময় বৈধ পণ্য থাকার পরও তা রেখে দেওয়া হয় এবং যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এ বিষয়ে তারা প্রতিকার দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদক জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!