‘পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ গড়া কঠিন’
পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে গোপালগঞ্জের শহর ও আশপাশের বসতি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে নতুন বসতি স্থাপন থেকে শুরু করে নগর সম্প্রসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
‘সর্বজনীন বাসস্থান-টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) গোপালগঞ্জে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে যাতে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে বা পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে আবাসন পরিকল্পনার পাশাপাশি জলাশয় ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, গোপালগঞ্জে নতুন বসতি স্থাপন ও নগর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনীয় আইন ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। এর ফলে ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নগর ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অপরিকল্পিতভাবে নগর বিস্তারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে শহরের উন্নয়ন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ আবাসন ও পরিবেশবান্ধব নগর নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, নগর পরিকল্পনাবিদসহ সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং পরিবেশ ও নাগরিকদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণ করা গেলে গোপালগঞ্জকে আরও সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।