ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাকুন্দিয়ায় গমের বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের 

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকুন্দিয়ায় গমের বাম্পার ফলনের আশা চাষিদের 
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এবছর গমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় লাভের আশা করছেন এখানকার চাষিরা। এতে আগামিতে এ উপজেলায় গম চাষের আবাদ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। 

জানা গেছে, এক সময় প্রচুর পরিমাণে গমের আবাদ হলেও এখন গম চাষ অনেকটাই কমে গেছে। সময়ের প্রেক্ষিতে আটার চাহিদা বাড়ায় আবারো সুদিন ফিরতে শুরু করছে গমে। আগে গম এবং আটার চাহিদা কম ছিল, উৎপাদন বেশি হতো। তাই চাষিরা ন্যায্য দাম পেতেন না। এতে হতাশায় তারা গম চাষ কমিয়ে দেন। বর্তমানে গম চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে এবছর কমবেশি গমের আবাদ হয়েছে। গম চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের কৃষি প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়। এতে এবছর এ উপজেলায় গমের আবাদ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ইঁদুরের আক্রমণ থেকে গমকে রক্ষায় কৃষকেরা সোচ্চার থাকায় এবছর ভালো ফলন এসেছে। কম খরচে কৃষকেরা এবার গম বিক্রি করে ভালো লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 

Advertisement

কৃষি অফিস জানায়, এবছর উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের গম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে পৌরসদরের শ্রীরামদী আনোয়ারখালী, চরফরাদী, আদিত্যপাশাসহ বেশি কিছু এলাকার গম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি জমিতেই ফলন আসতে শুরু করেছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পাকতে শুরু শুরু করবে এবং কর্তনের উপযোগী হবে। 

গম চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গম চাষে খরচ খুবই কম হয়। বেশি পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়েনা। তবে ইঁদুর ও শিয়ালের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করা গেলে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

শ্রীরামদী গ্রামের মো.শরীফ মিয়া বলেন, প্রতিবছর আমার পাঁচ কাঠা জমিতে আলুর আবাদ করে থাকি। গত বছর আলুর আবাদ কিছুটা কম হওয়ায় এবার গম চাষ করেছি। মাশাল্লাহ ভালো ফলন এসেছে। আগামি সপ্তাহ দুয়েক পর ফলন কাটতে পারব বলে আশা করছি। 

তিনি আরো বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে আমার সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আশা করছি কাঠা প্রতি ৫-৬ মণ করে ফলন পাবো। এতে আমি আর্থিকভাবে লাভবান হবো বলে আশা করছি। 

আদিত্যপাশা গ্রামের কৃষক লোকমান মিয়া বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রণোদনার গম বীজ ও সার দিয়ে ৫০ শতক জমিতে গমের আবাদ করেছি। ভালো ফলন এসেছে। আশা করছি লাভবান হবো। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই আলম বলেন, গম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। অনেকেই এখন খাবার তালিকায় গমের আটা রেখেছেন। বাজারে যেসব আটা পাওয়া যায় সেগুলোর তুলনায় চাষকৃত গমের আটা ফাইবারযুক্ত থাকে। এতে কৃষকেরা তাদের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হবেন। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় গমের আবাদ আগামিতে আরো বাড়বে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!