জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পুয়ালী গ্রামের মালেক ঘরামির বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। ছোট মেয়ে পুতুল আক্তারের সঙ্গে পাশের মাইজপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের বিয়ের দিন ধার্য ছিল শুক্রবার। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাইকেই বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। সেই দাওয়াতে অংশ নিতে মোটরসাইকেলে স্বামী-সন্তানসহ বিয়ে বাড়িতে আসছিলেন রেশমা।
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দেওয়ার জন্য তাদের মোটরসাইকেলটি যখন দাঁড়িয়ে ছিল সেই সময় পেছন থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রেশমার ছেলে আব্দুল্লাহ। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে রেশমাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনাগত সন্তানসহ মারা যান অন্তঃসত্ত্বা রেশমা। এ খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবারে। এতে মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়।
.png)
নিহত রেশমার বোন পুতুল আক্তার বলেন, আমাদের পাঁচ বোনের কথা ছিল একসঙ্গে আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। সে জন্যেই তিনি (রেশমা) বাড়িতে আসছিলেন। কিন্তু সে আর আসতে পারল না, আসলো তার নিথর দেহ। সঙ্গে আমার ছোট ভাগিনা আর অনাগত সন্তানও হত্যা হলো। এভাবে আর কত প্রাণ গেলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমবে। দোষী ওই বাসের চালক, হেলপার আর মালিকের বিচার দাবি করছি।
রেশমার বাবা মালেক ঘরামি বলেন, যাদের অবহেলায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিচার চাই। আমার ছোট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল শুক্রবার। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমার আরেক মেয়ে ও নাতি আসছিল। পথেই মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দেওয়ার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। এতে বিষাদে পরিণত হয়েছে বিয়ের আনন্দ।
ডাসার থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, মাওয়া টোল প্লাজায় একই পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন।
প্রমঙ্গত, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায় শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- আমেনা বেগম (৪৫), ইমি (২২), নিহা (১০), আয়াজ (২), রেশমা আক্তার (২৫), আব্দুলাহ (৭)।
আহত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- প্রাইভেটকারের মালিক নূর আলম (৩০), চালক হাবিবুর রহমান (৩২), নূর আলমের স্ত্রী অনামিকা (২৫), নাজিয়া (১৭) ও মোটরসাইকেল আরোহী মো. সুমন (৩০)।