ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সওজের ঝুঁকিপূর্ণ দেড় শতাধিক কালভার্ট-বেইলি ব্রিজ

মো. আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
সওজের ঝুঁকিপূর্ণ দেড় শতাধিক কালভার্ট-বেইলি ব্রিজ
ঝুঁকিপূর্ণ বাসন্ডা সেতু। ছবি: সংগৃহীত

আশির দশকে নির্মিত ঝালকাঠির সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে সড়ক এবং মহাসড়কের দেড় শতাধিক কালভার্ট ও বেইলি ব্রিজের প্রায় সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সড়কে আটকে পড়ছে বাহন, বন্ধ থাকছে যান চলাচল। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। তবুও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই সওজের।

সূত্র বলছে, ঝালকাঠির সড়ক ও জনপদ বিভাগের ২৬০ কিলোমিটার সড়কে পুরাতন দেড় শতাধিক কালভার্ট ও বেইলি ব্রিজের প্রায় সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। সড়ক প্রশস্ত হলেও ব্রিজ পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় কালভার্টের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্বা লেগে ঘটে দুর্ঘটনা। বেইলি ব্রিজগুলোর একেকটির পাত (প্লেট) ভেঙে কিংবা দেবে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে তখন বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অনেকেই। 

ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেক নেই কোনো সর্তকতামূলক সংকেত। ঝুঁকি নিয়ে সরু এসব ব্রিজ দিয়ে ভয়ে পরাপার হন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। ৩০ থেকে ৪০ বছরের এসব পুরাতন ব্রিজগুলো বিভিন্ন সময় নামমাত্র মেরামত করা হলেও ভারি যানবাহনের দাপটে আবার ভেঙে যায়। এতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। অধিকাংশ ব্রিজ বেশি পুরাতন হওয়ায় কোনটি দেবে গেছে। এসব ব্রিজে যেকোন সময় যাত্রীবাহী বাস ধসে গিয়ে ঘটতে পারে বড়  দুর্ঘটনা। এছাড়া মহাসড়ক ও সড়কের অগনিত মোড়ে সঠিকভাবে সাংকেতিক ফলক না থাকায় ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনায় ঘটেছে। এসব সমস্যা সমাধানে নেই কোনো উদ্যোগ। 

Advertisement

চালক ও স্থানীয়রা বলছেন, পুরাতন কালভার্ট ও বেইলি ব্রিজের প্রায় সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরু এ ব্রিজগুলো ভয়ে ভয়ে পারাপার করতে হয়। এসব সেতু ভেঙে নতুন করে গার্ডার (ঢালাই) ব্রিজের দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর ওপর আশির দশকে নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ছয় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে বরিশাল বা ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম আঞ্চলগামী প্রতিদিন শত শত যানবাহন যাতায়াত করে। ব্রিজটির ওপরে কোন যাত্রীবাহী বাস বা ট্রাক উঠলে, চালক ও যাত্রীরা অনুভব করেন ব্রিজটি দুলছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ব্রিজে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছেন। শুধু বাসন্ডা বেইলি ব্রিজই নয়, সদর উপজেলার কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান ও তারাপাশার দুটি বেইলি ব্রিজ, রাজাপুরের বাগড়ী বেইলি ব্রিজসহ জেলার প্রায় অর্ধশত বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ।  

ঝালকাঠির কলেজ মোড় থেকে নবগ্রামগামী সড়কে চামটা স্কুল সংলগ্ন, রাজাপুর ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার সীমান্তে বাড়ইবাড়ি ব্রিজসহ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট রয়েছে। এ ব্রিজগুলো দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, ঝালকাঠির সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে  ২৬০ কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়ক রয়েছে। এ সড়কে পুরাতন দেড় শতাধিক কালভার্ট ও বেইলি সেতুর প্রায় সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এর একটি সমীক্ষা শেষে প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন দফতরে পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, অনুমোদন হলেই ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট ও বেইলি ব্রিজগুলো পরিবর্তে নতুন ব্রিজ ও কার্লভার্ট নির্মাণ করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!