ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোপা আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৩:০৯, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
রোপা আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ধান মাড়াই করছেন কৃষক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরমধ্যে ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ধান কাটা, মাড়াই ও শুকিয়ে কৃষকেরা তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলছেন। এ মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ৮শ’ ৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৭৪ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের ঝিলিক। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৪শ’ ১২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। রোপনকৃত জমিতে ব্রি-৭৫, ৮৫, ৮৭, ৯৩, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ১০৩ জিআর ২২সহ নানা জাতের উন্নতফলনশীল ধান আবাদ কর‍া হয়। সঠিক সময়ে ধান আবাদ, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় কৃষকেরা জমি থেকে ঠিকমতো ধান কেটে ঘরে তুলছেন। উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করায় প্রতি বিঘায় ফলন পেয়েছেন ২০-২২ মণ ধান। বর্তমানে বিক্রিতে বাজার দর ভালো থাকলে যাবতীয় খবচ বাদে এ মৌসুমে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

কৃষি অফিস জানায়, এ মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রতি মণ ধানের দর হয় ১৩২০ টাকা।

Advertisement

উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কুসুমবাড়ি গ্রামের মো. মিলন মিয়া বলেন, চলতি বছরে রোপা আমন মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ করি। প্রতি বিঘায় ধানের চারা, রোপণ, হালচাষ, সার, কীটনাশক ও কর্তনে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায়  ধানের ফলন হয়েছে প্রায় ২১ থেকে ২২ মণ। ধান কাটার পরদিন প্রতি মণ ধান বিক্রি করেছি ১ হাজার টাকা দরে। ধানের ভালো ফলন আর দাম পেয়ে আমি খুবই খুশি।

পৌর শহরের তারাগন এলাকার কৃষক মো. আলম খাঁ বলেন, নানা প্রতিক‍ূলতা উপেক্ষা করে এ মৌসুমে আমি ৬ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দিয়ে আমন ধান রোপণ করি। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে প্রথমবার জমির ক্ষতি হয়। পানি চলে যাওয়ার পর পুনরায় জমি আবাদ করি। এতে খরচের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এরপর কৃষি অফিসের সার্বিক পরামর্শ ও নিজেদের তদারকিতে প্রতি বিঘায় ২০-২২ মণ ধান ফলন পেয়েছি। বাজারে ধানের দর ভালো থাকায় বিক্রিতে লাভবান হব। বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, এখন পুষিয়ে নিতে পারব।

উপজেলার টানমান্দাইল এলাকার কৃষক মো. হামদু মিয়া বলেন, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে জমি আবাদের ১০ দিনের মাথায় বন্যায় তলিয়ে জমি নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও তাদের সহযোগিতায় পুনরায় জমি আবাদ করি। জমিতে বিঘায় ২০-২২ মণ ফলন পেয়েছি। ফলনে আমি খুবই খুশি।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ১২ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল আমন ধান আবাদ করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ২০ হাজার ৮শ’ ৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রতি মণ ধানের দর হয় ১৩২০ টাকা। উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য ৭৪ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আমন ধান আবাদে সরকারিভাবে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় কৃষষদের ধানের বীজ, সার দেওয়া হয়। আমনের ফলন বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায় থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়। সময়মতো প্রয়োজনীয় সার-বীজ-কীটনাশক প্রয়োগ করায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের দাম বাজারে ভালো থাকায় লাভবান হবেন কৃষকেরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: আখাউড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!