ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ঠান্ডাজনিত রোগে কাবু বয়স্ক-শিশুরা, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৫:১২, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
ঠান্ডাজনিত রোগে কাবু বয়স্ক-শিশুরা, নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
জ্বর, কাশি, সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন বয়স্ক ও শিশুরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। শীতের এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। জ্বর, কাশি, সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভিড় করছেন অনেকে।

তবে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আফরোজা সুলতানা অন্যত্র সংযুক্তি থাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার শিশু রোগীরা।

জানা গেছে, শীতের এই সময়ে আবহাওয়াজনিত কারণে বেশির ভাগ মানুষই জ্বর-সর্দি-কার্শি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হোন। এদের বেশিরভাগই শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তি। যারা ২-১ দিনের মধ্যে ভালো না হন তারা বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসেন। তবে হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগীদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি শিশু চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার জনসাধারণ।

Advertisement

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের অন্য সময়ের তুলনায় শীতের এই সময়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় অনেক বেশি থাকে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালমুখো হোন সাধারণ মানুষ। এই সময়ে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং ভাইরাসজনিতে রোগে ভোগেন অনেকে। গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ জন রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এদের বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি। হাসপাতালে ওষুধের কোনো সংকট নেই। তবে একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আফরোজা সুলতানা গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্তি থাকায় এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে জটিল শিশু রোগীদের সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নারী-পুরুষের ভিড়। বেশিরভাগই শিশু। জরুরি বিভাগেও ভিড় দেখা গেছে। তাছাড়া চিকিৎসকদের প্রতিটি কক্ষেই রোগী ও স্বজনদের ভিড় চোখে পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তানিয়া আক্তার নামের এক নারী বলেন, গত দুইদিন ধরে শিশুকন্যা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। বাচ্চার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা শেষে সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

গিয়াস উদ্দিন নামের বয়স্ক এক ব্যক্তি বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বর ও কাশি। হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিতে।

পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস নামে এক ফার্মেসি কর্মচারী বলেন, যারা চিকিৎসক দেখিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ কিনতে আসছেন তারমধ্যে জ্বর, সর্দি ও কাশিজনিত ওষুধই বেশি। অন্য সময়ের চেয়ে এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত বেশি হোন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ আলম খান জানান, শীতের সময় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হোন। এই সময়ে তাদের অধিক যত্ন নিতে হয়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ অভিভাবক তেমন সচেতন নন, ফলে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 

তিনি আরো জানান, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। নিয়মিত কাপড় পরিবর্তন ও গরম কাপড় পরাতে হবে। সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। শিশুদের যেকোনো ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, একজন ছিলেন তিনি সংযুক্তিতে অন্যত্র রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!